সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক সাংবাদিকের রূপান্তর, সময় বদলালে কেন বদলায় বক্তব্য ও কলম

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৩৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৫৫ Time View

সংযুক্ত ছবিটি ভালোভাবে পড়লেই একটি গভীর বৈপরীত্য চোখে পড়ে—একই ব্যক্তি, একই কলম, কিন্তু সময় ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বক্তব্য ও অবস্থানের নাটকীয় পরিবর্তন।

একদিকে সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলা হচ্ছে—
“দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা চলেছে যা বিপজ্জনক। তারেক রহমান আগেই দেশে ফিরলে অবস্থা কিছুটা ভালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হতো।”
অন্যদিকে, অতীতে সেই একই ব্যক্তির লেখা কলামে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছিল—তারেক রহমানের দুর্নীতির বিচার হতেই হবে; আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়; রাজনীতিতে নৈতিকতা ও জবাবদিহি অপরিহার্য।

এই দুই অবস্থান পাশাপাশি রাখলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এত অল্প সময়ে কী এমন বদল এলো, যে একজন লেখক ও সম্পাদক তার আগের শক্ত অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ উল্টো সুরে কথা বলছেন? এটি কি রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপে মত বদল, নাকি ক্ষমতার কেন্দ্র বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে কলমের দিকও বদলে যাচ্ছে?

সাংবাদিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নীতিগত ধারাবাহিকতা। কিন্তু যখন দেখা যায়, একই ব্যক্তি একসময় যাকে দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, পরবর্তী সময়ে তাকেই “সমাধানের সম্ভাবনা” হিসেবে তুলে ধরছেন—তখন পাঠকের আস্থা নড়ে যায়। প্রশ্ন জাগে, এটি কি সত্যের অনুসন্ধান, নাকি সুবিধাজনক অবস্থান গ্রহণ?

এখানেই আসে আরও গভীর অভিযোগ ও বিশ্লেষণ। অনেকের মতে, মতিউর রহমান ও মাহফুজ আনামদের মতো প্রভাবশালী বুদ্ধিবৃত্তিক গোষ্ঠীর প্রথম টার্গেট হলো এ দেশ থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কোণঠাসা করা। এতদিন এই কাজটি তারা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে করেছে, এখন একই এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে বিএনপির মাধ্যমে। যদি এই প্রস্তাবে জামায়াত রাজি হতো, তাহলে জামায়াতকেই সামনে রেখে এই কাজ সম্পন্ন করা হতো—এমন অভিযোগও উঠছে।

তাদের দ্বিতীয় ও আরও ভয়ংকর টার্গেট হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে—টাকার বিনিময়ে স্বাধীন এই দেশকে ভারতের স্বার্থের কাছে বিকিয়ে দেওয়া। সমালোচকদের ভাষায়, এরা মূলত বেতন পায় ভারত থেকেই, এবং দেশীয় রাজনীতিকে তারা দেখেন দিল্লির দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে। এখানেই উঠে আসে তীব্র এক সতর্কবার্তা—

/> Indian Razakars are more dangerous than Pakistani Razakars, and both of them are heinous vultures.

এই বক্তব্য হয়তো কঠোর, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে একটি রাজনৈতিক ক্ষোভ ও হতাশা—নিজের দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেণির একাংশ যখন বারবার ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নৈতিক অবস্থান বদলায়, তখন সাধারণ মানুষ এমন ভাষাই বেছে নেয়।

সব মিলিয়ে, সংযুক্ত পুরোনো লেখা ও বর্তমান বক্তব্য একসঙ্গে পড়লে স্পষ্ট হয়—সমস্যা শুধু রাজনৈতিক নয়, সমস্যা নৈতিকতার। আজ যে কলম এক কথা বলছে, কাল সেই কলমই যদি ঠিক উল্টো কথা বলে, তবে ইতিহাস ঠিকই হিসাব রাখবে।

সেই হিসাবের খাতায় তাই অনেকেই আজ ব্যঙ্গ ও তিরস্কারের সুরে বলছে—
সাবাস!!!

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক সাংবাদিকের রূপান্তর, সময় বদলালে কেন বদলায় বক্তব্য ও কলম

Update Time : ০৯:৩৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

সংযুক্ত ছবিটি ভালোভাবে পড়লেই একটি গভীর বৈপরীত্য চোখে পড়ে—একই ব্যক্তি, একই কলম, কিন্তু সময় ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বক্তব্য ও অবস্থানের নাটকীয় পরিবর্তন।

একদিকে সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলা হচ্ছে—
“দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা চলেছে যা বিপজ্জনক। তারেক রহমান আগেই দেশে ফিরলে অবস্থা কিছুটা ভালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হতো।”
অন্যদিকে, অতীতে সেই একই ব্যক্তির লেখা কলামে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছিল—তারেক রহমানের দুর্নীতির বিচার হতেই হবে; আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়; রাজনীতিতে নৈতিকতা ও জবাবদিহি অপরিহার্য।

এই দুই অবস্থান পাশাপাশি রাখলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এত অল্প সময়ে কী এমন বদল এলো, যে একজন লেখক ও সম্পাদক তার আগের শক্ত অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ উল্টো সুরে কথা বলছেন? এটি কি রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপে মত বদল, নাকি ক্ষমতার কেন্দ্র বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে কলমের দিকও বদলে যাচ্ছে?

সাংবাদিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নীতিগত ধারাবাহিকতা। কিন্তু যখন দেখা যায়, একই ব্যক্তি একসময় যাকে দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, পরবর্তী সময়ে তাকেই “সমাধানের সম্ভাবনা” হিসেবে তুলে ধরছেন—তখন পাঠকের আস্থা নড়ে যায়। প্রশ্ন জাগে, এটি কি সত্যের অনুসন্ধান, নাকি সুবিধাজনক অবস্থান গ্রহণ?

এখানেই আসে আরও গভীর অভিযোগ ও বিশ্লেষণ। অনেকের মতে, মতিউর রহমান ও মাহফুজ আনামদের মতো প্রভাবশালী বুদ্ধিবৃত্তিক গোষ্ঠীর প্রথম টার্গেট হলো এ দেশ থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কোণঠাসা করা। এতদিন এই কাজটি তারা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে করেছে, এখন একই এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে বিএনপির মাধ্যমে। যদি এই প্রস্তাবে জামায়াত রাজি হতো, তাহলে জামায়াতকেই সামনে রেখে এই কাজ সম্পন্ন করা হতো—এমন অভিযোগও উঠছে।

তাদের দ্বিতীয় ও আরও ভয়ংকর টার্গেট হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে—টাকার বিনিময়ে স্বাধীন এই দেশকে ভারতের স্বার্থের কাছে বিকিয়ে দেওয়া। সমালোচকদের ভাষায়, এরা মূলত বেতন পায় ভারত থেকেই, এবং দেশীয় রাজনীতিকে তারা দেখেন দিল্লির দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে। এখানেই উঠে আসে তীব্র এক সতর্কবার্তা—

/> Indian Razakars are more dangerous than Pakistani Razakars, and both of them are heinous vultures.

এই বক্তব্য হয়তো কঠোর, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে একটি রাজনৈতিক ক্ষোভ ও হতাশা—নিজের দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেণির একাংশ যখন বারবার ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নৈতিক অবস্থান বদলায়, তখন সাধারণ মানুষ এমন ভাষাই বেছে নেয়।

সব মিলিয়ে, সংযুক্ত পুরোনো লেখা ও বর্তমান বক্তব্য একসঙ্গে পড়লে স্পষ্ট হয়—সমস্যা শুধু রাজনৈতিক নয়, সমস্যা নৈতিকতার। আজ যে কলম এক কথা বলছে, কাল সেই কলমই যদি ঠিক উল্টো কথা বলে, তবে ইতিহাস ঠিকই হিসাব রাখবে।

সেই হিসাবের খাতায় তাই অনেকেই আজ ব্যঙ্গ ও তিরস্কারের সুরে বলছে—
সাবাস!!!