হাদির জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষের ঢল, ‘হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না’ স্লোগানে মুখর
- Update Time : ১২:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৫৫ Time View

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শীর্ষ নেতা শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষের ঢল নামে। শনিবার সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টার আগেই পুরো এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’ ও ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’— এমন স্লোগানে প্রকম্পিত হয় চারপাশ।
জানাজা উপলক্ষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশেপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিশেষ টহলে থাকে সেনাবাহিনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১ হাজার বডি ওয়ার্ন ক্যামেরাসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ প্রশাসন।
হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে এক বিশাল শোক মিছিলে হাদির মরদেহ জানাজার স্থানে আনা হয়। দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়
ইনকিলাব মঞ্চ সূত্রে জানা যায়, পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাদ জোহর জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়।
এর আগে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হাদির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় মোটরসাইকেলারোহী সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এরপর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনা হয়।
গণঅভ্যুত্থানের পর হাদি তরুণ প্রজন্মের কাছে সাহসের প্রতীকে পরিণত হন, যা আজকের এই জনসমুদ্রে স্পষ্ট প্রতিভাত হয়। কবি নজরুল ইসলামের সমাধি সংলগ্ন স্থানে বিকালে তার দাফন সম্পন্ন হয়।













