সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেলে কোন রুটে কত বাড়ল টিকিটের দাম?

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৭০ Time View

ঢাকা–কক্সবাজারসহ দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেনের টিকিটের ভাড়া বাড়িয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন ও রুটভেদে সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত টিকিটের দাম বেড়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৩ বছরে সরাসরি কিংবা বিভিন্ন কৌশলে কয়েক দফা ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। তবে এবার সরাসরি টিকিটের মূল ভাড়া না বাড়িয়ে ‘পন্টেজ চার্জ’ বা সেতু ব্যবহার মাশুল আরোপের মাধ্যমে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা–চট্টগ্রাম, ঢাকা–কক্সবাজার, ঢাকা–সিলেট, চট্টগ্রাম–সিলেট, চট্টগ্রাম–জামালপুর এবং ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ—এই ছয়টি রুটের মোট ১১টি সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলেই এসব রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর ভাড়া বেড়েছে।

ঢাকা–চট্টগ্রাম রুট
এই রুটে সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৮৫৫ টাকা থেকে ৮৮ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯৪৩ টাকা। প্রথম বার্থের ভাড়া এখন এক হাজার ১৩৩ টাকা এবং এসি সিটের ভাড়া বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৭৪৬ টাকা। আগে এসব আসনের ভাড়া ছিল যথাক্রমে এক হাজার ২৫ টাকা ও এক হাজার ৫৯০ টাকা।

ঢাকা–কক্সবাজার রুট
কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৪৪৯ টাকা, যা আগে ছিল এক হাজার ৩২২ টাকা—অর্থাৎ বেড়েছে ১২৭ টাকা। এসি সিটের ভাড়া এক হাজার ৫৯০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৭৪০ টাকা। আর এসি বার্থের ভাড়া সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা বেড়ে দুই হাজার ৪৩০ টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬৫৬ টাকায়।

ঢাকা–সিলেট রুট
এই রুটে মেইল ট্রেনের ভাড়া ১২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে। শোভন চেয়ারের ভাড়া ৩৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১০ টাকা। স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৭১৯ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৮৮ টাকা। এসি সিটের ভাড়া ৮৬৩ টাকার জায়গায় এখন দিতে হবে ৯৪৩ টাকা। এসি বার্থের ভাড়া ১২৭ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৬৫ টাকায়।

চট্টগ্রাম–সিলেট রুট
এই রুটে স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৮৫৭ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯০৯ টাকা। এসি সিটের ভাড়া এক হাজার ৩০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৭ টাকায়। পাশাপাশি এসি বার্থ ও ফাস্ট বার্থের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৬৭৮ টাকা এবং এক হাজার ১৩৭ টাকা।

চট্টগ্রাম–জামালপুর রুট
এ রুটে শোভন চেয়ারের ভাড়া ৫২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৪৫ টাকা করা হয়েছে। স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৩৪ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৭ টাকা থেকে এক হাজার ৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসি সিটের ভাড়া ৪৬ টাকা বেড়ে এক হাজার ২০৮ টাকা থেকে হয়েছে এক হাজার ২৫৪ টাকা। এসি বার্থের ভাড়া বেড়ে এক হাজার ৮৫৬ টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯২৫ টাকায়।

ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ রুট
এই রুটে স্নিগ্ধা শ্রেণির নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮৯ টাকা, যা আগে ছিল ৪৭৮ টাকা। এছাড়া এসি সিটের ভাড়া ৫৮৭ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ৯২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেলওয়ের নতুন এই ভাড়া কাঠামো কার্যকরের ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যয় বেড়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রেলে কোন রুটে কত বাড়ল টিকিটের দাম?

Update Time : ১০:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকা–কক্সবাজারসহ দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেনের টিকিটের ভাড়া বাড়িয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন ও রুটভেদে সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত টিকিটের দাম বেড়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৩ বছরে সরাসরি কিংবা বিভিন্ন কৌশলে কয়েক দফা ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। তবে এবার সরাসরি টিকিটের মূল ভাড়া না বাড়িয়ে ‘পন্টেজ চার্জ’ বা সেতু ব্যবহার মাশুল আরোপের মাধ্যমে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা–চট্টগ্রাম, ঢাকা–কক্সবাজার, ঢাকা–সিলেট, চট্টগ্রাম–সিলেট, চট্টগ্রাম–জামালপুর এবং ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ—এই ছয়টি রুটের মোট ১১টি সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলেই এসব রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর ভাড়া বেড়েছে।

ঢাকা–চট্টগ্রাম রুট
এই রুটে সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৮৫৫ টাকা থেকে ৮৮ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯৪৩ টাকা। প্রথম বার্থের ভাড়া এখন এক হাজার ১৩৩ টাকা এবং এসি সিটের ভাড়া বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৭৪৬ টাকা। আগে এসব আসনের ভাড়া ছিল যথাক্রমে এক হাজার ২৫ টাকা ও এক হাজার ৫৯০ টাকা।

ঢাকা–কক্সবাজার রুট
কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৪৪৯ টাকা, যা আগে ছিল এক হাজার ৩২২ টাকা—অর্থাৎ বেড়েছে ১২৭ টাকা। এসি সিটের ভাড়া এক হাজার ৫৯০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৭৪০ টাকা। আর এসি বার্থের ভাড়া সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা বেড়ে দুই হাজার ৪৩০ টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬৫৬ টাকায়।

ঢাকা–সিলেট রুট
এই রুটে মেইল ট্রেনের ভাড়া ১২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে। শোভন চেয়ারের ভাড়া ৩৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১০ টাকা। স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৭১৯ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৮৮ টাকা। এসি সিটের ভাড়া ৮৬৩ টাকার জায়গায় এখন দিতে হবে ৯৪৩ টাকা। এসি বার্থের ভাড়া ১২৭ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৬৫ টাকায়।

চট্টগ্রাম–সিলেট রুট
এই রুটে স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৮৫৭ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯০৯ টাকা। এসি সিটের ভাড়া এক হাজার ৩০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৭ টাকায়। পাশাপাশি এসি বার্থ ও ফাস্ট বার্থের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৬৭৮ টাকা এবং এক হাজার ১৩৭ টাকা।

চট্টগ্রাম–জামালপুর রুট
এ রুটে শোভন চেয়ারের ভাড়া ৫২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৪৫ টাকা করা হয়েছে। স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৩৪ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৭ টাকা থেকে এক হাজার ৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসি সিটের ভাড়া ৪৬ টাকা বেড়ে এক হাজার ২০৮ টাকা থেকে হয়েছে এক হাজার ২৫৪ টাকা। এসি বার্থের ভাড়া বেড়ে এক হাজার ৮৫৬ টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯২৫ টাকায়।

ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ রুট
এই রুটে স্নিগ্ধা শ্রেণির নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮৯ টাকা, যা আগে ছিল ৪৭৮ টাকা। এছাড়া এসি সিটের ভাড়া ৫৮৭ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ৯২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেলওয়ের নতুন এই ভাড়া কাঠামো কার্যকরের ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যয় বেড়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।