সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাসিবাদী শাসনের ১৬ বছর ও গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: হাদির মৃত্যুর খবরে ছাত্র–জনতার ক্ষোভে প্রথম আলো–ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:১৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৬২ Time View
আগুণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

 

ফ্যাসিবাদী শাসনের ১৬ বছর ও গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: হাদির মৃত্যুর খবরে ছাত্র–জনতার ক্ষোভে প্রথম আলো–ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ

টানা ১৬ বছর ধরে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রীয় দমন–পীড়ন, গুম–খুন, ভোটাধিকার হরণ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ থাকলেও দেশের প্রভাবশালী কিছু গণমাধ্যম নীরব কিংবা প্রকাশ্যভাবে সেই শাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ছাত্র–জনতার একটি বড় অংশের চোখে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার ছিল ওই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার প্রথম সারির বুদ্ধিবৃত্তিক সমর্থক। সেই জমে থাকা ক্ষোভই বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর।

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ একদল মানুষ ঢাকার কারওয়ানবাজারে অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে দুটি শীর্ষ গণমাধ্যমের অফিসেই ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রথম আলোর চারতলা ভবনটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে তখনও ধোঁয়া উঠছিল। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নেভানোর পর ঠান্ডা করার কাজ করছিল। ভবনটিতে প্রথম আলোর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রথমাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ও দপ্তর ছিল, যা আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

আগুণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস।

হামলাকারীদের দেওয়া আগুনে ডেইলি স্টারের ভবনের নিচতলা ও দোতলা পুড়ে যায়। ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুরের চিহ্ন স্পষ্ট, আসবাবপত্র, কাগজপত্র ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। শুক্রবার সকালে ডেইলি স্টারের সামনে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে দুটি গণমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলার সময় ভেতরে থাকা একাধিক সংবাদকর্মী আটকা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ক্রেন ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে তাদের উদ্ধার করেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। হামলার সময় অফিসের ভেতরে লুটতরাজের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাস্থলে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর উপস্থিত হলে তাকেও বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় এবং হেনস্তার শিকার হন বলে জানা যায়। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে শুক্রবার সকালে প্রথম আলোর সামনে র‍্যাব ও পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেলেও সেনা সদস্যদের আর দেখা যায়নি।

প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ গণমাধ্যমকে জানান, হামলায় তাদের অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে আপাতত অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম হামলার কারণে প্রথম আলোর প্রকাশনা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়েছে বলেও তিনি জানান। “পুরো ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। সাংবাদিকতার জন্য এটি এক বড় আঘাত,” বলেন তিনি।

আগ্নি সংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ডেইলি স্টার ভবন

ডেইলি স্টারের কর্মীরা জানান, হামলাকারীরা ভবনের প্রায় সব তলায় ভাঙচুর চালিয়ে ক্যামেরা, হার্ডড্রাইভসহ মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে গেছে। এক কর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, তার সারা জীবনের পেশাগত কাজ, ছবি ও স্মৃতি ওই ডিভাইসগুলোর মধ্যেই সংরক্ষিত ছিল, যা এক নিমিষেই হারিয়ে গেছে।

সহিংসতার আগুন শুধু গণমাধ্যম ভবনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রাত একটার দিকে ধানমন্ডিতে অবস্থিত সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের ভবনেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর পরপরই ছায়ানট তাদের ফেসবুক পেজে এক ঘোষণায় ‘ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তন’-সহ সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার কথা জানায়।

একই রাতে ধানমন্ডি-৩২-এ অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতেও আবার ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালেও বাড়িটির অবশিষ্ট দেয়াল ভাঙার দৃশ্য বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তোলে।

সহিংসতার আঁচ রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সামনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, পরে রাত দুইটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। একই শহরে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিনের বাসায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়।

সারারাতের এই সহিংসতার পর ইনকিলাব মঞ্চ তাদের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের নিন্দা জানায় এবং দাবি করে, জনগণের ন্যায্য ক্ষোভকে পুঁজি করে একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও প্রতিক্রিয়া আসে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক ফেসবুক পোস্টে সহিংসতায় জড়িত দুস্কৃতিকারীদের কঠোর হস্তে দমনের আহ্বান জানান। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ধৈর্য ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সবাইকে পরিস্থিতি শান্ত রাখার অনুরোধ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুই নয়; এটি দীর্ঘদিনের দমন, ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের বিস্ফোরণকে সামনে এনে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি কোন পথে গড়াবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে দ্রুত বিচার, রাজনৈতিক সংলাপ এবং দায়িত্বশীল আচরণের ওপর।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ফ্যাসিবাদী শাসনের ১৬ বছর ও গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: হাদির মৃত্যুর খবরে ছাত্র–জনতার ক্ষোভে প্রথম আলো–ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ

Update Time : ১১:১৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
আগুণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

 

ফ্যাসিবাদী শাসনের ১৬ বছর ও গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: হাদির মৃত্যুর খবরে ছাত্র–জনতার ক্ষোভে প্রথম আলো–ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ

টানা ১৬ বছর ধরে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রীয় দমন–পীড়ন, গুম–খুন, ভোটাধিকার হরণ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ থাকলেও দেশের প্রভাবশালী কিছু গণমাধ্যম নীরব কিংবা প্রকাশ্যভাবে সেই শাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ছাত্র–জনতার একটি বড় অংশের চোখে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার ছিল ওই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার প্রথম সারির বুদ্ধিবৃত্তিক সমর্থক। সেই জমে থাকা ক্ষোভই বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর।

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ একদল মানুষ ঢাকার কারওয়ানবাজারে অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে দুটি শীর্ষ গণমাধ্যমের অফিসেই ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রথম আলোর চারতলা ভবনটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে তখনও ধোঁয়া উঠছিল। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নেভানোর পর ঠান্ডা করার কাজ করছিল। ভবনটিতে প্রথম আলোর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রথমাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ও দপ্তর ছিল, যা আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

আগুণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস।

হামলাকারীদের দেওয়া আগুনে ডেইলি স্টারের ভবনের নিচতলা ও দোতলা পুড়ে যায়। ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুরের চিহ্ন স্পষ্ট, আসবাবপত্র, কাগজপত্র ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। শুক্রবার সকালে ডেইলি স্টারের সামনে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে দুটি গণমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলার সময় ভেতরে থাকা একাধিক সংবাদকর্মী আটকা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ক্রেন ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে তাদের উদ্ধার করেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। হামলার সময় অফিসের ভেতরে লুটতরাজের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাস্থলে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর উপস্থিত হলে তাকেও বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় এবং হেনস্তার শিকার হন বলে জানা যায়। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে শুক্রবার সকালে প্রথম আলোর সামনে র‍্যাব ও পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেলেও সেনা সদস্যদের আর দেখা যায়নি।

প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ গণমাধ্যমকে জানান, হামলায় তাদের অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে আপাতত অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম হামলার কারণে প্রথম আলোর প্রকাশনা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়েছে বলেও তিনি জানান। “পুরো ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। সাংবাদিকতার জন্য এটি এক বড় আঘাত,” বলেন তিনি।

আগ্নি সংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ডেইলি স্টার ভবন

ডেইলি স্টারের কর্মীরা জানান, হামলাকারীরা ভবনের প্রায় সব তলায় ভাঙচুর চালিয়ে ক্যামেরা, হার্ডড্রাইভসহ মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে গেছে। এক কর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, তার সারা জীবনের পেশাগত কাজ, ছবি ও স্মৃতি ওই ডিভাইসগুলোর মধ্যেই সংরক্ষিত ছিল, যা এক নিমিষেই হারিয়ে গেছে।

সহিংসতার আগুন শুধু গণমাধ্যম ভবনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রাত একটার দিকে ধানমন্ডিতে অবস্থিত সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের ভবনেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর পরপরই ছায়ানট তাদের ফেসবুক পেজে এক ঘোষণায় ‘ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তন’-সহ সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার কথা জানায়।

একই রাতে ধানমন্ডি-৩২-এ অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতেও আবার ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালেও বাড়িটির অবশিষ্ট দেয়াল ভাঙার দৃশ্য বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তোলে।

সহিংসতার আঁচ রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সামনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, পরে রাত দুইটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। একই শহরে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিনের বাসায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়।

সারারাতের এই সহিংসতার পর ইনকিলাব মঞ্চ তাদের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের নিন্দা জানায় এবং দাবি করে, জনগণের ন্যায্য ক্ষোভকে পুঁজি করে একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও প্রতিক্রিয়া আসে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক ফেসবুক পোস্টে সহিংসতায় জড়িত দুস্কৃতিকারীদের কঠোর হস্তে দমনের আহ্বান জানান। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ধৈর্য ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সবাইকে পরিস্থিতি শান্ত রাখার অনুরোধ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুই নয়; এটি দীর্ঘদিনের দমন, ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের বিস্ফোরণকে সামনে এনে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি কোন পথে গড়াবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে দ্রুত বিচার, রাজনৈতিক সংলাপ এবং দায়িত্বশীল আচরণের ওপর।