ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে সকালেও শাহবাগে ছাত্র–জনতার ঢল, স্লোগানে উত্তাল রাজধানী
- Update Time : ১০:৪৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৫১ Time View

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে সকাল থেকেই ছাত্র–জনতার ঢল নামতে থাকে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোর পেরোতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল, সমাবেশ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শাহবাগ চত্বর জনসমুদ্রে পরিণত হয়। হাতে জাতীয় পতাকা, মাথায় কালো ব্যাজ, মুখে ক্ষোভ আর শোকের স্লোগানে পুরো এলাকা যেন প্রতিবাদের এক জীবন্ত মঞ্চে রূপ নেয়।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাহবাগে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরীর নানা প্রান্ত—শনিরআখড়া, রামপুরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ীসহ আশপাশের জেলা থেকেও মানুষ দলে দলে এসে জড়ো হচ্ছেন। ‘ফ্যাসিবাদের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘খুনের বিচার চাই, বিচার চাই’—এমন স্লোগানে বারবার প্রকম্পিত হচ্ছে শাহবাগ চত্বর।
শনিরআখড়া থেকে আসা মাদ্রাসাশিক্ষার্থী আশফাকুর রহমান বলেন, ‘আমরা একজন সাচ্চা দেশপ্রেমিক, একজন সাহসী বিপ্লবী নেতাকে হারিয়েছি। সারারাত ঘুমাতে পারিনি। বুকের ভেতর আগুন জ্বলছে। প্রতিবাদ জানাতেই ভোরে এখানে চলে এসেছি। ওসমান হাদির মতো মানুষ খুব কম জন্মায়। তাঁর রক্তের ঋণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা চুপ থাকব না।’
রামপুরা থেকে আসা তরুণ কর্মী ইমরুল কায়েস বলেন, ‘হাদির মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়, এটি গোটা জাতির ওপর আঘাত। এই শোক আমাদের দুর্বল করবে না, বরং আরও শক্ত করবে। দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’
প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে একটি উদীয়মান গণআন্দোলনের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করতেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অনেকেই এটিকে মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দমনের ধারাবাহিকতার অংশ বলে মন্তব্য করেন। বক্তারা বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে দেশে সহিংসতা ও অস্থিরতা আরও বাড়বে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ শুরু হয়। শাহবাগ, পল্টন, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ীসহ একাধিক স্থানে ছাত্র–জনতা সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানায়। কোথাও কোথাও মোমবাতি প্রজ্বালন, কালো পতাকা মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকালে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় তাকে। টানা কয়েকদিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে থমথমে ও উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং বিচার প্রক্রিয়া কোন দিকে গড়ায়—তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভও বাড়ছে। অনেকের কণ্ঠে এখন একটাই দাবি—হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, স্বচ্ছ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।













