সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৭তম বিসিএস থেকে বঞ্চিতদের অবশেষে নিয়োগ: ৬৭৩ জনের গেজেট প্রকাশ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:২৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৫৮ Time View

 

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর অবশেষে ২৭তম বিসিএস (পরীক্ষা–২০০৫) থেকে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের জন্য সুখবর এলো। সরকার ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত কিন্তু এতদিন নিয়োগ না পাওয়া ৬৭৩ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নব নিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৭৩ জনের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে রয়েছেন ৯০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৭০ জন, অডিট ক্যাডারে ৫ জন, আনসার ক্যাডারে ১ জন, কর ক্যাডারে ১ জন, সমবায় ক্যাডারে ৫ জন, খাদ্য ক্যাডারে ২ জনসহ অন্যান্য ক্যাডারের প্রার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২৭তম বিসিএস পরীক্ষা–২০০৫-এর প্রথম পর্যায়ের ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ৫ নভেম্বর তারিখের সুপারিশ অনুসারে এসব প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। তাদের জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ২২,০০০ টাকা থেকে ৫৩,০৬০ টাকা পর্যন্ত বেতনক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) অথবা সরকার নির্ধারিত অন্য কোনো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে সরকার যেভাবে নির্ধারণ করবে, সেভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পেশাগত ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া তাদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে, যা প্রয়োজনে সরকার সর্বোচ্চ আরও দুই বছর পর্যন্ত বাড়াতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষানবিশকালে যদি কোনো কর্মকর্তা চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হন, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং পিএসসির সঙ্গে পরামর্শ ব্যতিরেকে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে। তবে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে শেষ করতে পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে স্থায়ী করা হবে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি অঙ্গীকারনামা দাখিল করাও বাধ্যতামূলক।

নিয়োগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—প্রতিটি নিয়োগপ্রাপ্তকে একজন জামানতদারসহ ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি বন্ড সম্পাদন করতে হবে। বন্ডে উল্লেখ থাকবে, শিক্ষানবিশকালে অথবা শিক্ষানবিশকাল উত্তীর্ণ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে প্রশিক্ষণকালীন বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণের জন্য প্রাপ্ত অগ্রিম, ভ্রমণভাতা ও অন্যান্য ভাতাসহ তার প্রশিক্ষণে ব্যয়িত সমুদয় অর্থ সরকারকে ফেরত দিতে হবে।

এছাড়া ইস্তফা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক ইস্তফা গৃহীত হওয়ার আগে দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকলে বিধি অনুযায়ী সরকারের প্রাপ্য সব অর্থ আদায় করা হবে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হতে পারে।

জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের ব্যাচের জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে তাদের নিয়োগ আদেশ ভূতাপেক্ষিকভাবে কার্যকর হবে। অর্থাৎ, তাদের ব্যাচের প্রথম যে তারিখে নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল, সেই তারিখ থেকেই তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা গণ্য হবে। তবে এ ভূতাপেক্ষিক নিয়োগের ফলে তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও আন্দোলনের পর এই নিয়োগকে ২৭তম বিসিএসের নিয়োগবঞ্চিতদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

২৭তম বিসিএস থেকে বঞ্চিতদের অবশেষে নিয়োগ: ৬৭৩ জনের গেজেট প্রকাশ

Update Time : ০৯:২৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

 

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর অবশেষে ২৭তম বিসিএস (পরীক্ষা–২০০৫) থেকে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের জন্য সুখবর এলো। সরকার ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত কিন্তু এতদিন নিয়োগ না পাওয়া ৬৭৩ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নব নিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৭৩ জনের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে রয়েছেন ৯০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৭০ জন, অডিট ক্যাডারে ৫ জন, আনসার ক্যাডারে ১ জন, কর ক্যাডারে ১ জন, সমবায় ক্যাডারে ৫ জন, খাদ্য ক্যাডারে ২ জনসহ অন্যান্য ক্যাডারের প্রার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২৭তম বিসিএস পরীক্ষা–২০০৫-এর প্রথম পর্যায়ের ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ৫ নভেম্বর তারিখের সুপারিশ অনুসারে এসব প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। তাদের জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ২২,০০০ টাকা থেকে ৫৩,০৬০ টাকা পর্যন্ত বেতনক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) অথবা সরকার নির্ধারিত অন্য কোনো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে সরকার যেভাবে নির্ধারণ করবে, সেভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পেশাগত ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া তাদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে, যা প্রয়োজনে সরকার সর্বোচ্চ আরও দুই বছর পর্যন্ত বাড়াতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষানবিশকালে যদি কোনো কর্মকর্তা চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হন, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং পিএসসির সঙ্গে পরামর্শ ব্যতিরেকে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে। তবে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে শেষ করতে পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে স্থায়ী করা হবে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি অঙ্গীকারনামা দাখিল করাও বাধ্যতামূলক।

নিয়োগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—প্রতিটি নিয়োগপ্রাপ্তকে একজন জামানতদারসহ ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি বন্ড সম্পাদন করতে হবে। বন্ডে উল্লেখ থাকবে, শিক্ষানবিশকালে অথবা শিক্ষানবিশকাল উত্তীর্ণ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে প্রশিক্ষণকালীন বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণের জন্য প্রাপ্ত অগ্রিম, ভ্রমণভাতা ও অন্যান্য ভাতাসহ তার প্রশিক্ষণে ব্যয়িত সমুদয় অর্থ সরকারকে ফেরত দিতে হবে।

এছাড়া ইস্তফা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক ইস্তফা গৃহীত হওয়ার আগে দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকলে বিধি অনুযায়ী সরকারের প্রাপ্য সব অর্থ আদায় করা হবে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হতে পারে।

জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের ব্যাচের জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে তাদের নিয়োগ আদেশ ভূতাপেক্ষিকভাবে কার্যকর হবে। অর্থাৎ, তাদের ব্যাচের প্রথম যে তারিখে নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল, সেই তারিখ থেকেই তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা গণ্য হবে। তবে এ ভূতাপেক্ষিক নিয়োগের ফলে তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও আন্দোলনের পর এই নিয়োগকে ২৭তম বিসিএসের নিয়োগবঞ্চিতদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।