হাদিকে হত্যাচেষ্টা: শুটার ফয়সালকে নিয়ে আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন নুরুজ্জামান
- Update Time : ০২:২৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৫৭ Time View

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল আদালতে রিমান্ড শুনানিতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন পরিকল্পিতভাবে একাধিক স্থান পরিবর্তন করে গাড়ি ভাড়া নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত ধামরাই হয়ে ময়মনসিংহে পালিয়ে যান ফয়সাল।
বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে নুরুজ্জামান নোমানীর রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী। শুনানি শেষে বিচারক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শুনানিতে নুরুজ্জামান নোমানী আদালতকে জানান, হত্যাচেষ্টার দিন ১২ ডিসেম্বর প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করেন। তবে গাড়িটি এক জায়গায় না রেখে তিন দফায় তিনটি ভিন্ন স্থানে যেতে বলা হয়। প্রথমে ঢাকার মৎস্য ভবনের সামনে গাড়িটি পাঠাতে বলা হলেও পরে পরিকল্পনা বদলে জুমার নামাজের পর আগারগাঁওয়ের বিএনপি বাজারে পাঠানোর নির্দেশ আসে। সেখানেও না থেকে সর্বশেষ ধামরাই উপজেলার কালামপুরে গাড়িটি পাঠাতে বলা হয়। কালামপুর থেকে গাড়িতে উঠে ফয়সাল ময়মনসিংহের দিকে চলে যান বলে তিনি জানান।
নুরুজ্জামান বলেন, গাড়ি ভাড়ার সূত্র ধরেই ফয়সাল করিমের সঙ্গে তার পরিচয়। তবে গত তিন মাসে তাদের সরাসরি কোনো দেখা হয়নি। মূলত হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেই গাড়ি ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি সমন্বয় করা হতো। তিনি দাবি করেন, প্রায় নয় মাস আগে অনলাইনে গাড়ি ভাড়ার সূত্র ধরে ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। “আমি তো শুধু গাড়ি ভাড়া দিয়েছি। উনি কী কাজে গাড়ি ব্যবহার করছেন, সেটা আমার জানা ছিল না,”—শুনানিতে এমন বক্তব্য দেন নুরুজ্জামান।
তিনি আরও জানান, হত্যাচেষ্টার দিন ফয়সাল পারিবারিক জরুরি কারণ দেখিয়ে গাড়ি ভাড়া নিতে চান। কিন্তু সেদিন তার সব গাড়ি ট্রিপে থাকায় প্রথমে তিনি রাজি হননি। পরে বন্ধু সুমনের গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন। নুরুজ্জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে মৎস্য ভবনের সামনে গাড়ি পাঠানো হলেও পরে ফয়সাল ফোন করে জানান, সেখানে যাবেন না; জুমার পরপরই বিএনপি বাজারের সামনে গাড়ি পাঠাতে বলেন। এরপর সেখান থেকেও আবার নির্দেশ বদলে কালামপুরে গাড়ি পাঠাতে বলা হয়।
শুনানির একপর্যায়ে বিচারক জানতে চান, চালককে তিনি চেনেন কি না। জবাবে নুরুজ্জামান বলেন, ‘জি’। চালক কোথায় আছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, তাকেও আটক করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ডিবি হেফাজতে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডের বিজয়নগর এলাকায় একটি রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুজনের একজন শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুলিতে হাদির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে গুলি চালানোর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে শনাক্ত করেছে। তারা হলেন—ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান (প্রধান সন্দেহভাজন শুটার) এবং আলমগীর হোসেন (মোটরসাইকেল চালক)। এ ছাড়া মামলার তদন্তে ফয়সাল করিমের স্ত্রী, প্রেমিকা ও শ্যালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ রিমান্ডে নিয়েছে। তদন্তে বেরিয়ে আসা নতুন তথ্যগুলো মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।













