সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘যে ভারত খুনি পালে সেই ভারত ভেঙ্গে দাও; বাবরের পথ ধরো, সেভেন সিস্টার্স স্বাধীন করো’

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ০২:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৭৮ Time View

 

জুলাই ঐক্য” নামে পরিচিত ছাত্র-যুব সংগঠনগুলো ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে তীব্র প্রতিবাদসূচক মিছিল করেছে। হাজারো ছাত্র-ছাত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষার্থী, সাবেক সেনা কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন শিক্ষাজনিত সংগঠন অংশ নেয়।

মিছিল ও সমাবেশে চিৎকার করে স্লোগান দেওয়া হয়: যে ভারত খুনি পালে সেই ভারত ভেঙ্গে দাও,” “দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা ঢাকা,” “গোলামী নয়, আজাদী,” এবং আপোষ নয়, সংগ্রাম” কিছু স্লোগান ইতিহাস ও ভূ-রাজনৈতিক ইঙ্গিতও বহন করে, যেমন বাবরের পথ ধরো, সেভেন সিস্টার্স স্বাধীন করো”, যা ছাত্রজনতার ক্ষোভ ও জাতীয়তাবাদী আবেগের প্রতিফলন।

মিছিল থেমে সমাবেশে পরিণত

রামপুরা ব্রিজ থেকে শুরু হওয়া মিছিল মধ্য বাড্ডা পর্যন্ত অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে মিছিল থেমে যায় এবং হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশে রূপ নেয়। কর্মসূচির মূল দাবি ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সকল খুনিকে দেশে ফেরানোর আহ্বান। এছাড়াও, ভারতীয় প্রোএক্সি রাজনৈতিক দল, মিডিয়া ও সরকারি কর্মকর্তাদের অব্যাহত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানানো হয়।

ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, “চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারতের প্রক্সিরা বাংলাদেশ নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ভারত সব খুনিকে আশ্রয় দিয়েছে এবং আমাদের দাবি অনুযায়ী গ্রেফতার বা বিচার কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি নেই। আমাদের ভাই হাদিকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “যদি খুনি হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে না পারো, তাহলে যারা এই অপরাধে সহযোগী তাদেরও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।”

ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “আমার ভাই ওসমান হাদিকে হত্যার চেষ্টা ভারতের মাধ্যমে হয়েছে। ভারতের চোখে চোখ রেখে বাংলাদেশের জমিনে আর কোনো খুনিকে ছাড় দেওয়া হবে না। সেভেন সিস্টার্সকে মুক্ত করার জন্য আমরা কোনো দ্বিধা দেখাবো না।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভারত যদি খুনিদের ফেরত না দেয়, আমরা ভারতের বাজেট বন্ধ করব এবং ভারতের সব হাইকমিশনারকে দেশে বিতাড়িত করব।”

ভারতীয় প্রভাব রাজনৈতিক লবিং

জুলাই ঐক্যের নেতা ইসরাফিল ফরাজি বলেন, “আজকের কর্মসূচি ছিল একটি সতর্কবার্তা। আমরা দেখেছি, ভারত লবিস্ট নিয়োগ করেছে গণহত্যাকারী দল আ.লীগের জন্য। আগামী দিনে আমরা আরও বড় আন্দোলন করব। যদি শেখ হাসিনা ও অন্যান্য খুনি ফিরিয়ে আনা না হয়, ভারতের জন্য তা ভালো হবে না।”

মিছিল ও সমাবেশে সরকারকে সতর্ক করা হয় যে, দুই হাজার ছাত্রজনতার রক্তের ওপর দাঁড়ানো সরকারের একমাত্র কর্তব্য ছিল খুনিদের ফিরিয়ে আনা, কিন্তু তা সম্পন্ন হয়নি। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আন্দোলন আরও তীব্র হবে এবং কোনো আপোষ হবে না।

উত্তেজনা ভবিষ্যতের পথ

সমাবেশ শেষে পুলিশ এলাকায় অবস্থান বজায় রাখে। ছাত্র-যুব সংগঠনগুলো ঘোষণা করেছে, এ ছিল কেবল একটি বার্তা। আগামী দিনে বৃহত্তর ও আরও শক্তিশালী আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হবে। ঢাকার রাস্তায় জুলাই আন্দোলনের প্রভাব এখনও তীব্র, এবং দেশীয় রাজনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে এটি একটি শক্তিশালী সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

‘যে ভারত খুনি পালে সেই ভারত ভেঙ্গে দাও; বাবরের পথ ধরো, সেভেন সিস্টার্স স্বাধীন করো’

Update Time : ০২:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

 

জুলাই ঐক্য” নামে পরিচিত ছাত্র-যুব সংগঠনগুলো ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে তীব্র প্রতিবাদসূচক মিছিল করেছে। হাজারো ছাত্র-ছাত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষার্থী, সাবেক সেনা কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন শিক্ষাজনিত সংগঠন অংশ নেয়।

মিছিল ও সমাবেশে চিৎকার করে স্লোগান দেওয়া হয়: যে ভারত খুনি পালে সেই ভারত ভেঙ্গে দাও,” “দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা ঢাকা,” “গোলামী নয়, আজাদী,” এবং আপোষ নয়, সংগ্রাম” কিছু স্লোগান ইতিহাস ও ভূ-রাজনৈতিক ইঙ্গিতও বহন করে, যেমন বাবরের পথ ধরো, সেভেন সিস্টার্স স্বাধীন করো”, যা ছাত্রজনতার ক্ষোভ ও জাতীয়তাবাদী আবেগের প্রতিফলন।

মিছিল থেমে সমাবেশে পরিণত

রামপুরা ব্রিজ থেকে শুরু হওয়া মিছিল মধ্য বাড্ডা পর্যন্ত অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে মিছিল থেমে যায় এবং হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশে রূপ নেয়। কর্মসূচির মূল দাবি ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সকল খুনিকে দেশে ফেরানোর আহ্বান। এছাড়াও, ভারতীয় প্রোএক্সি রাজনৈতিক দল, মিডিয়া ও সরকারি কর্মকর্তাদের অব্যাহত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানানো হয়।

ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, “চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারতের প্রক্সিরা বাংলাদেশ নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ভারত সব খুনিকে আশ্রয় দিয়েছে এবং আমাদের দাবি অনুযায়ী গ্রেফতার বা বিচার কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি নেই। আমাদের ভাই হাদিকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “যদি খুনি হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে না পারো, তাহলে যারা এই অপরাধে সহযোগী তাদেরও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।”

ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “আমার ভাই ওসমান হাদিকে হত্যার চেষ্টা ভারতের মাধ্যমে হয়েছে। ভারতের চোখে চোখ রেখে বাংলাদেশের জমিনে আর কোনো খুনিকে ছাড় দেওয়া হবে না। সেভেন সিস্টার্সকে মুক্ত করার জন্য আমরা কোনো দ্বিধা দেখাবো না।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভারত যদি খুনিদের ফেরত না দেয়, আমরা ভারতের বাজেট বন্ধ করব এবং ভারতের সব হাইকমিশনারকে দেশে বিতাড়িত করব।”

ভারতীয় প্রভাব রাজনৈতিক লবিং

জুলাই ঐক্যের নেতা ইসরাফিল ফরাজি বলেন, “আজকের কর্মসূচি ছিল একটি সতর্কবার্তা। আমরা দেখেছি, ভারত লবিস্ট নিয়োগ করেছে গণহত্যাকারী দল আ.লীগের জন্য। আগামী দিনে আমরা আরও বড় আন্দোলন করব। যদি শেখ হাসিনা ও অন্যান্য খুনি ফিরিয়ে আনা না হয়, ভারতের জন্য তা ভালো হবে না।”

মিছিল ও সমাবেশে সরকারকে সতর্ক করা হয় যে, দুই হাজার ছাত্রজনতার রক্তের ওপর দাঁড়ানো সরকারের একমাত্র কর্তব্য ছিল খুনিদের ফিরিয়ে আনা, কিন্তু তা সম্পন্ন হয়নি। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আন্দোলন আরও তীব্র হবে এবং কোনো আপোষ হবে না।

উত্তেজনা ভবিষ্যতের পথ

সমাবেশ শেষে পুলিশ এলাকায় অবস্থান বজায় রাখে। ছাত্র-যুব সংগঠনগুলো ঘোষণা করেছে, এ ছিল কেবল একটি বার্তা। আগামী দিনে বৃহত্তর ও আরও শক্তিশালী আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হবে। ঢাকার রাস্তায় জুলাই আন্দোলনের প্রভাব এখনও তীব্র, এবং দেশীয় রাজনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে এটি একটি শক্তিশালী সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।