সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দুই রঙের ব্যালট, কিন্তু বক্স থাকবে একটাই: ভোট দেবেন যেভাবে
- Update Time : ১২:০০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৬০ Time View

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এই দুই প্রক্রিয়ায় ভোট দিতে গিয়ে ভোটারদের কিছু ভিন্নতা মনে রাখতে হবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটাররা দুটি আলাদা ব্যালট পেপারে ভোট দিলেও ব্যালট বক্স হবে একটি মাত্র।
ইসি জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার হবে সাদা রঙের, আর গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রঙের। ভোটাররা উভয় ব্যালটেই নির্ধারিত স্থানে সিল (মোহর) ব্যবহার করে ভোট দেবেন এবং ভোট দেওয়া শেষে দুটি ব্যালটই একই ব্যালট বক্সে ফেলতে হবে।
একই দিনে ভোট, একই কেন্দ্রে কার্যক্রম
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ভোটগ্রহণ চলবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত, বিরতিহীনভাবে। একই ভোটকেন্দ্র ও একই ভোটার তালিকা ব্যবহার করেই এই দুই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় পৌনে ১৩ কোটি।
পোস্টাল ব্যালটে ভিন্ন নিয়ম
ইসি জানায়, সাধারণ ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে সিল ব্যবহার করেই ভোট দিতে হবে। তবে পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকছে। প্রবাসী বা বিশেষ কারণে পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারকারী ভোটাররা গণভোটের ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পাশে নির্ধারিত ঘরে টিক (✓) অথবা ক্রস (✗) চিহ্ন দিয়ে ভোট দেবেন।
গণভোট সংক্রান্ত পরিপত্র জারি
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন গণভোট–সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত পরিপত্র জারি করেছে। এতে গণভোটের প্রশ্ন, ভোটগ্রহণ পদ্ধতি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা, ভোট গণনা, ফলাফল প্রস্তুত ও প্রকাশ, ফলাফল একত্রীকরণ এবং গেজেট প্রকাশের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এই পরিপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
গণভোটের
এই গণভোটের মূল বিষয় হলো—
‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং জুলাই জাতীয় সনদে উল্লিখিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবসমূহের প্রতি ভোটাররা সম্মতি জানাচ্ছেন কি না।
এর মধ্যে রয়েছে—
(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠনের নতুন কাঠামো।
(খ) দুই কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ গঠন এবং দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা।
(গ) নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ মোট ৩০টি বিষয়ে ঐকমত্য বাস্তবায়ন।
(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন।
একই কর্মকর্তারা পালন করবেন দায়িত্ব
গণভোট অধ্যাদেশ জারি হলেও এ জন্য আলাদা কোনো বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই গণভোটের দায়িত্বও পালন করবেন।
রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার—সবাই একই সঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনা করবেন।
যেভাবে গণনা হবে ভোট
ভোটগ্রহণ শেষে প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্রে বা পোস্টাল ভোট গণনা কেন্দ্রে ব্যালট বক্স খুলবেন। প্রথমে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে।
এরপর সংসদ নির্বাচনের ব্যালটগুলো প্রার্থীভিত্তিক এবং গণভোটের ব্যালটগুলো ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—এই দুই ভাগে আলাদা করে গণনা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনা করলেও স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।













