টক শো ও নির্বাচনী সংলাপে কোনো দল বা প্রার্থীকে ‘কটূক্তি’ করা যাবে না: ইসির নির্দেশ
- Update Time : ০৪:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৬৫ Time View

নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য রাখতে টেলিভিশন টক শো, নির্বাচনী সংলাপ কিংবা যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে কোনো দল বা প্রার্থীকে হেয়প্রতিপন্ন করা যাবে না—এমন কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরকারি ও বেসরকারি সব টেলিভিশন চ্যানেলসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রচারের ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে কমিশন।
আজ বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ অধিশাখা থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটি ইতিবাচক ও সহনশীল নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো তথ্য ও মতামত প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সে কারণে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার, টক শো কিংবা নির্বাচনী সংলাপে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো পক্ষকে বাড়তি সুবিধা বা বৈষম্যের শিকার করা হলে তা নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইসি মনে করছে।
নির্বাচন কমিশনের বিবৃতিতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ২৫-এর কথাও উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে আয়োজিত নির্বাচনী সংলাপে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী বা দলের প্রতিনিধি অংশ নিতে পারবেন, তবে তিনি কোনো ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য দিতে পারবেন না। অর্থাৎ, মতাদর্শগত আলোচনা বা সমালোচনা করা গেলেও কটূক্তি, অপমানজনক মন্তব্য কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আরও জানায়, সরকারি-বেসরকারি সব টেলিভিশন চ্যানেল এবং সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে নির্বাচনী সংলাপ বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে কোনো দল বা প্রার্থীকে হেয়প্রতিপন্ন করে বক্তব্য প্রচার না হয়। একই সঙ্গে সব প্রার্থীকে সমানভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইসির এই নির্দেশনা নির্বাচনী প্রচারে শালীনতা বজায় রাখা এবং গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।













