সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা, জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:১৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৬৩ Time View

মহান বিজয় দিবস আজ। বাঙালি জাতির হাজার বছরের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের ইতিহাসে ১৬ ডিসেম্বর এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। জাতির এই মহাবিজয়ের দিনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোরের প্রথম প্রহর থেকেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল নামে।

দিবসটির সূচনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে লাখো শহীদের আত্মত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার স্মরণে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সকাল ৬টা ৩১ মিনিটে তিনি শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। এর কিছুক্ষণ পর, সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি সম্মান জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণ করেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে, যা উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদদের সম্মানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়, যা রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধার এক অনন্য প্রতীক।

পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জাতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানানোর পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়।

এদিন জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রবেশদ্বার সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। ফুল, পতাকা ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের এই পবিত্র স্মারক। বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একটি তারিখ নয়; এটি বিজয়, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার চিরন্তন প্রতীক। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে এবং অর্জিত হয় বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। মহান বিজয় দিবস বাঙালি জাতির প্রতিটি প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ত্যাগ, ঐক্য ও জাতীয় দায়বদ্ধতার অমলিন শিক্ষা দিয়ে যায়—যা আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা, জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল

Update Time : ১১:১৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

মহান বিজয় দিবস আজ। বাঙালি জাতির হাজার বছরের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের ইতিহাসে ১৬ ডিসেম্বর এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। জাতির এই মহাবিজয়ের দিনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোরের প্রথম প্রহর থেকেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল নামে।

দিবসটির সূচনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে লাখো শহীদের আত্মত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার স্মরণে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সকাল ৬টা ৩১ মিনিটে তিনি শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। এর কিছুক্ষণ পর, সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি সম্মান জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণ করেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে, যা উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদদের সম্মানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়, যা রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধার এক অনন্য প্রতীক।

পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জাতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানানোর পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়।

এদিন জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রবেশদ্বার সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। ফুল, পতাকা ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের এই পবিত্র স্মারক। বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একটি তারিখ নয়; এটি বিজয়, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার চিরন্তন প্রতীক। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে এবং অর্জিত হয় বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। মহান বিজয় দিবস বাঙালি জাতির প্রতিটি প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ত্যাগ, ঐক্য ও জাতীয় দায়বদ্ধতার অমলিন শিক্ষা দিয়ে যায়—যা আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।