সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এখনও সংকটাপন্ন ওসমান হাদির অবস্থা, চিকিৎসকদের নজর ‘টাইম উইন্ডোতে’

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:০০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৬৫ Time View

নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল (এসজিএইচ)-এ উন্নত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি এখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিঙ্গাপুরে হাদির চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জন ও তার চিকিৎসা টিমের সদস্য ডা. আব্দুল আহাদ। তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলেন, হাদির শারীরিক অবস্থায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ডা. আব্দুল আহাদ জানান, সিঙ্গাপুরের নিউরোসার্জনদের সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, হাদির মস্তিষ্কে ইস্কেমিক পরিবর্তন ও ব্রেন ইডেমা (মস্তিষ্কের ফোলা) আগের মতোই বিদ্যমান রয়েছে। বিশেষ করে ব্রেন স্টেমে আঘাতের কারণে ভেন্ট্রিকুলার সিস্টেমে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা চিকিৎসকদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অংশের ক্ষতি স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঢাকায় একাধিক অস্ত্রোপচার ও নিবিড় চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই নিউরোসার্জারি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের বিশেষজ্ঞরা সমন্বিতভাবে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

চিকিৎসকদের বরাতে ডা. আহাদ জানান, বর্তমানে হাদির কিডনি, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস কৃত্রিম সহায়তা ও ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে কার্যকর রাখা হচ্ছে। তার গ্লাসগো কোমা স্কেল (জিসিএস) স্কোরে এখনো কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। অর্থাৎ নিউরোলজিক্যাল অবস্থায় দৃশ্যমান উন্নতি কিংবা অবনতির কোনো লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়।

চিকিৎসকদের মতে, এই পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। ব্রেন ইনজুরির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ‘টাইম উইন্ডো’ থাকে, যার ভেতরে শরীর যদি ইতিবাচক সাড়া দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে সেই সময়সীমার মধ্যেই হাদির শারীরিক প্রতিক্রিয়ার দিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নজর রাখা হচ্ছে।

ডা. আহাদ আরও জানান, হাদির ফুসফুসের সর্বশেষ সিটি স্ক্যানে আগের মতোই রক্তের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ কারণেই বাংলাদেশে তার বুকে চেস্ট ড্রেন দেওয়া হয়েছিল। সিঙ্গাপুরেও একই জটিলতা বিবেচনায় রেখে শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যকে সম্পূর্ণ গুজব বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন চিকিৎসকরা। ডা. আব্দুল আহাদ স্পষ্ট করে বলেন, হাদি চোখ খুলেছেন বা তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে—এ ধরনের কোনো তথ্য সঠিক নয়। বাস্তবতা হলো, তার অবস্থা এখনো স্ট্যাটিক রয়েছে এবং চিকিৎসকরা প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

তবে চিকিৎসকরা এটাও উল্লেখ করেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অনেক সময় অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। সেই আশাতেই সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

এ সময় হাদির পরিবার ও সহকর্মীরা দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন এবং একই সঙ্গে গুজব ও অনুমানভিত্তিক তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এখনও সংকটাপন্ন ওসমান হাদির অবস্থা, চিকিৎসকদের নজর ‘টাইম উইন্ডোতে’

Update Time : ০৯:০০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল (এসজিএইচ)-এ উন্নত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি এখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিঙ্গাপুরে হাদির চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জন ও তার চিকিৎসা টিমের সদস্য ডা. আব্দুল আহাদ। তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলেন, হাদির শারীরিক অবস্থায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ডা. আব্দুল আহাদ জানান, সিঙ্গাপুরের নিউরোসার্জনদের সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, হাদির মস্তিষ্কে ইস্কেমিক পরিবর্তন ও ব্রেন ইডেমা (মস্তিষ্কের ফোলা) আগের মতোই বিদ্যমান রয়েছে। বিশেষ করে ব্রেন স্টেমে আঘাতের কারণে ভেন্ট্রিকুলার সিস্টেমে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা চিকিৎসকদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অংশের ক্ষতি স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঢাকায় একাধিক অস্ত্রোপচার ও নিবিড় চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই নিউরোসার্জারি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের বিশেষজ্ঞরা সমন্বিতভাবে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

চিকিৎসকদের বরাতে ডা. আহাদ জানান, বর্তমানে হাদির কিডনি, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস কৃত্রিম সহায়তা ও ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে কার্যকর রাখা হচ্ছে। তার গ্লাসগো কোমা স্কেল (জিসিএস) স্কোরে এখনো কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। অর্থাৎ নিউরোলজিক্যাল অবস্থায় দৃশ্যমান উন্নতি কিংবা অবনতির কোনো লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়।

চিকিৎসকদের মতে, এই পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। ব্রেন ইনজুরির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ‘টাইম উইন্ডো’ থাকে, যার ভেতরে শরীর যদি ইতিবাচক সাড়া দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে সেই সময়সীমার মধ্যেই হাদির শারীরিক প্রতিক্রিয়ার দিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নজর রাখা হচ্ছে।

ডা. আহাদ আরও জানান, হাদির ফুসফুসের সর্বশেষ সিটি স্ক্যানে আগের মতোই রক্তের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ কারণেই বাংলাদেশে তার বুকে চেস্ট ড্রেন দেওয়া হয়েছিল। সিঙ্গাপুরেও একই জটিলতা বিবেচনায় রেখে শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যকে সম্পূর্ণ গুজব বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন চিকিৎসকরা। ডা. আব্দুল আহাদ স্পষ্ট করে বলেন, হাদি চোখ খুলেছেন বা তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে—এ ধরনের কোনো তথ্য সঠিক নয়। বাস্তবতা হলো, তার অবস্থা এখনো স্ট্যাটিক রয়েছে এবং চিকিৎসকরা প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

তবে চিকিৎসকরা এটাও উল্লেখ করেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অনেক সময় অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। সেই আশাতেই সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

এ সময় হাদির পরিবার ও সহকর্মীরা দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন এবং একই সঙ্গে গুজব ও অনুমানভিত্তিক তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।