গাড়ির ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গ্রামবাসীর তুমুল সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০
- Update Time : ০৯:৫২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৫৪ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একটি ফলের দোকান ও গরুর গায়ে অটোরিকশার ধাক্কা লাগা নিয়ে শুরু হওয়া তর্ক-বিতর্ক এক পর্যায়ে রূপ নেয় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে সরাইল উপজেলার সৈয়দটুলা ও চানমনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্কে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মোড় এলাকায় চানমনিপাড়া গ্রামের রওশন আলীর ছেলে ইউসুফের একটি ফলের দোকান রয়েছে। সোমবার দুপুরে সৈয়দটুলা গ্রামের সামাদ মিয়ার ভাতিজা তার অটোরিকশাটি ইউসুফের দোকানের সামনে এনে দাঁড় করান। এতে দোকানের সামনে চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হলে ইউসুফ অটোচালককে গাড়িটি সরিয়ে নিতে বলেন।
এ সময় অটোরিকশাটি সরানোর সময় অসাবধানতাবশত ইউসুফের ফলের দোকানে এবং একই গ্রামের নূরুল আলম নামে এক ব্যক্তির গরুর সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে দোকানের কিছু ফল নষ্ট হয় এবং গরুটিও আহত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউসুফ ও নূরুল আলমের সঙ্গে অটোচালকের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তারা। বিষয়টি দ্রুত দুই গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে সৈয়দটুলা ও চানমনিপাড়া গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র—লাঠি, বাঁশ ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষ পরস্পরের ওপর হামলা চালালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় গ্রামের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সরাইল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরবর্তী কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে প্রশাসন।












