নির্বাচন বানচালের অভিযোগে শেখ হাসিনা ইস্যুতে কড়া বার্তা ঢাকার, ভারতীয় হাইকমিশনার তলব
- Update Time : ০৪:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৫৪ Time View

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টার অভিযোগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সময় বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে ভারতের সরকারের কাছে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতে অবস্থানরত পলাতক শেখ হাসিনা নিয়মিতভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে তার অনুসারী ও সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াতে আহ্বান জানাচ্ছেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বক্তব্য ও তৎপরতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে আদালতের দেওয়া দণ্ড কার্যকরের মুখোমুখি। এ প্রেক্ষাপটে তাদের দ্রুত প্রত্যর্পণের বিষয়ে দিল্লির প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ঢাকার মতে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে এই প্রত্যর্পণ জরুরি।
তলবকালে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিষয়টিও ভারতীয় হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিকল্পনা, সংগঠন ও বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে।
বাংলাদেশ সরকার এসব অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধে ভারতের পক্ষ থেকে দ্রুত, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন ভারতীয় ভূখণ্ড বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বা সহিংস কার্যক্রমের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতা শরিফ ওসমান হাদির ওপর সংঘটিত হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনরা যেন ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে—সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়। যদি কেউ এরই মধ্যে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে থাকে, তবে তাদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের আহ্বান জানানো হয়।
ঢাকা স্পষ্ট করে জানায়, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষায় ভারতের দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশিত।
এ সময় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জানান, বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক—এটাই ভারতের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্যে তার দেশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।













