সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি: তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে শুরু নির্বাচনী উত্তাপ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২৯২ Time View
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার পর্দা উঠল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে একযোগে সম্প্রচারিত এই ভাষণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার ও সাধারণ মানুষের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হলো।

সিইসির ঘোষণায় নির্বাচনের তারিখ, মনোনয়নপত্র দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা, যাচাই-বাছাইয়ের দিনক্ষণ এবং প্রতীক বরাদ্দের সময়সূচি স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। তার ভাষণে তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চূড়ান্ত ভোটগ্রহণ। প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের জন্য এদিন হবে গণতান্ত্রিক অধিকারে অংশগ্রহণের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

তফসিল অনুযায়ী প্রক্রিয়া

ঘোষিত তফসিলে বলা হয়েছে—

  • প্রার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।
  • এরপর শুরু হবে কঠোর যাচাই-বাছাই, যাতে অযোগ্য বা অনিয়মের অভিযোগ থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
  • মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখের পর রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
  • প্রতীক পেয়ে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরুর অনুমতি পাবেন। এ সময় তারা ইশতেহার প্রকাশ, গণসংযোগ, জনসভা ও গণমাধ্যম ব্যবহার করে ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন।

নিরাপত্তা প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা

ইসি জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে দেশজুড়ে নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিসংবেদনশীল ভোটকেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। যেকোনো অনিয়ম, সহিংসতা বা বাধা মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্সও প্রস্তুত থাকবে।

ইতিমধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। দেশব্যাপী ৪২ হাজার ৭৬১টি

ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ মোতায়েনের কাজ শুরু হয়েছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বা ব্যালট পেপার—যে পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হবে, সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব তৎপরতা

তফসিল ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে ভিন্ন মাত্রার উত্তেজনা। মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় দলগুলো এ ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছে বিভিন্ন পক্ষ। রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া—সবখানেই শুরু হয়েছে প্রচার-প্রচারণার প্রাথমিক দৌড়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী, জোটভুক্ত দলগুলো ও ইসির নিবন্ধিত অন্য রাজনৈতিক সংগঠন দ্রুতই প্রচারণা সামগ্রী—পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড—প্রস্তুত করছে। বিভিন্ন আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে এলাকায় এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা ও সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন শুধু নতুন সাংসদ নির্বাচনই নয়, বরং এবার ভোটের সাথে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোট একদিকে যেমন ভোটারদের জন্য গণতন্ত্র চর্চার নতুন সুযোগ, তেমনি দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণও তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি: তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে শুরু নির্বাচনী উত্তাপ

Update Time : ০৯:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার পর্দা উঠল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে একযোগে সম্প্রচারিত এই ভাষণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার ও সাধারণ মানুষের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হলো।

সিইসির ঘোষণায় নির্বাচনের তারিখ, মনোনয়নপত্র দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা, যাচাই-বাছাইয়ের দিনক্ষণ এবং প্রতীক বরাদ্দের সময়সূচি স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। তার ভাষণে তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চূড়ান্ত ভোটগ্রহণ। প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের জন্য এদিন হবে গণতান্ত্রিক অধিকারে অংশগ্রহণের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

তফসিল অনুযায়ী প্রক্রিয়া

ঘোষিত তফসিলে বলা হয়েছে—

  • প্রার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।
  • এরপর শুরু হবে কঠোর যাচাই-বাছাই, যাতে অযোগ্য বা অনিয়মের অভিযোগ থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
  • মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখের পর রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
  • প্রতীক পেয়ে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরুর অনুমতি পাবেন। এ সময় তারা ইশতেহার প্রকাশ, গণসংযোগ, জনসভা ও গণমাধ্যম ব্যবহার করে ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন।

নিরাপত্তা প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা

ইসি জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে দেশজুড়ে নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিসংবেদনশীল ভোটকেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। যেকোনো অনিয়ম, সহিংসতা বা বাধা মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্সও প্রস্তুত থাকবে।

ইতিমধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। দেশব্যাপী ৪২ হাজার

৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ মোতায়েনের কাজ শুরু হয়েছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বা ব্যালট পেপার—যে পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হবে, সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব তৎপরতা

তফসিল ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে ভিন্ন মাত্রার উত্তেজনা। মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় দলগুলো এ ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছে বিভিন্ন পক্ষ। রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া—সবখানেই শুরু হয়েছে প্রচার-প্রচারণার প্রাথমিক দৌড়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী, জোটভুক্ত দলগুলো ও ইসির নিবন্ধিত অন্য রাজনৈতিক সংগঠন দ্রুতই প্রচারণা সামগ্রী—পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড—প্রস্তুত করছে। বিভিন্ন আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে এলাকায় এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা ও সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন শুধু নতুন সাংসদ নির্বাচনই নয়, বরং এবার ভোটের সাথে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোট একদিকে যেমন ভোটারদের জন্য গণতন্ত্র চর্চার নতুন সুযোগ, তেমনি দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণও তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।