মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার মূল অভিযুক্ত গৃহকর্মী গ্রেপ্তার
- Update Time : ০২:১০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১০৬ Time View

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে বরিশালের নলছিটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “মোহাম্মদপুরে মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মীকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
এর আগে এই জোড়া হত্যার ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে আয়েশার নাম শনাক্ত করেছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গৃহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা মিলবে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, আয়েশার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রেপ্তারের পর প্রকাশ করা হবে।
ঘটনার পটভূমি:
গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের ১৪ তলা একটি ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়া (১৫) ছুরিকাঘাতে নিহত হন। ওইদিন রাতেই লায়লা আফরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৭টার দিকে আজিজুল ইসলাম স্কুলে যাওয়ার পর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বাসায় ফিরে তিনি স্ত্রীর ও মেয়ের লাশ দেখতে পান। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাসা থেকে একটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকার মতো মূল্যবান জিনিসপত্রও নিখোঁজ ছিল।
ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হত্যার পর এক নারী স্কুলড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। চার দিন আগে নিজের পরিচয় দিয়ে গৃহকর্মীর কাজ নেওয়া প্রায় ২০ বছর বয়সী আয়েশাকে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহ করা হচ্ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, আয়েশা সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে বাসা থেকে পালিয়ে যান।
তদন্ত ও চ্যালেঞ্জ:
তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, আয়েশা তার আসল নাম ও ঠিকানা গোপন করেছিলেন এবং বাসার কাজে যোগ দেওয়ার সময় কোনো মোবাইল ফোনও সঙ্গে ছিল না। পরে যে ফোনটি নিয়ে গেছেন, সেটি বাসা থেকে বেরিয়েই বন্ধ করে দেন। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার বেশির ভাগই অচল থাকায় তাকে শনাক্ত করতে পুলিশকে ম্যানুয়ালভাবে নানা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়েছে।
সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং নাফিসার দেহে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন জানান, হত্যার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকালে মা-মেয়ের মরদেহ নাটোর পৌরসভার দক্ষিণ বড়গাছায় নেওয়া হয়। জোহরের নামাজের পর জানাজা সম্পন্ন হয় এবং তাদের দাফন করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ড পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেশী ও স্বজনরা আতঙ্কিত, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। গ্রেপ্তারের পর আয়েশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যার সঠিক কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।













