সালমান-আনিসুলকে আনা হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে
- Update Time : ১০:৫৪:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১০৪ Time View

জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল দিকে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পুলিশের প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আনা হয়।
কড়া নিরাপত্তা ও আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা
সকালে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন লক্ষ্য করা যায়। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও চারপাশে অবস্থান নেন।
আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের প্রিজনভ্যান আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ, সংবাদকর্মী ও আইনজীবীদের ভিড়ে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। ট্রাইব্যুনালে প্রবেশের জন্য মিডিয়া ও আইনজীবীদের বিশেষ তালিকা অনুযায়ী অনুমতি দেওয়া হয়।
জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে অভিযোগের পটভূমি
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা, রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণহত্যা ও নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল—এমন দাবি করে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর চলতি বছরের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা গঠন করা হয়।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে—গণ-অভ্যুত্থান দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর অন্যায় নির্দেশনা প্রদান, নির্বিচারে বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত আটক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তৎকালীন উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক হিসেবে আনিসুল হক এবং সালমান এফ রহমান দায়ী ছিলেন।
আদালতে তোলা হলো—শুরু হলো শুনানির প্রস্তুতি
ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর দুজনকে আদালতের নিরাপত্তা সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর প্রসিকিউশন পক্ষ সম্ভাব্য অভিযোগপত্র (চার্জ) উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। আদালত প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
জাতীয় রাজনীতি ও জনমনে আলোড়ন
দুই প্রভাবশালী নেতাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করাকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলাটি শুধু আইনি প্রক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতেও নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।










