জুলাই আন্দোলনে নিহত ১৮২ জন অজ্ঞাত শহীদের মরদেহ উত্তোলন শুরু রোববার
- Update Time : ১০:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১০৭ Time View

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের অজ্ঞাত ১৮২ শহীদের মরদেহ উত্তোলনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে আগামী রোববার (৭ ডিসেম্বর)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই শহীদদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ সংগ্রহ ও ফরেনসিক পরীক্ষার বৃহৎ উদ্যোগ হাতে নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডি জানিয়েছে, রোববার সকাল থেকেই মরদেহ উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মানবিক কাজের তদারকি করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. লুইস ফন্ডেব্রিডার, সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং সংস্থার বিভিন্ন শাখার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
এর আগে, ২ ডিসেম্বর সিআইডির কর্মকর্তারা রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে অজ্ঞাত শহীদদের দাফনস্থান সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং পুরো এলাকা ঘুরে উত্তোলন প্রক্রিয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি নেন। কবরস্থানের ভেতরে অস্থায়ী তাবু, আলো-ব্যবস্থা, মর্গ-সুবিধা এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বসানো হয়েছে। মরদেহ উত্তোলনের পর সকল প্রক্রিয়াগত কাজ এই অস্থায়ী সেটআপেই সম্পন্ন হবে।
মরদেহ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত আসে চলতি বছরের ৪ আগস্ট। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পুলিশের আবেদনে এই নির্দেশ দেন। আদালতে আবেদনটি করেন মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম।
আদালতে দেওয়া আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করে, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সূত্রপাত হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিভিন্ন বয়সের বহু নারী-পুরুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের অনেকেই পরিচয়হীন ছিলেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের দাফন করা হয়। এখন পরিবারগুলোর আবেদন ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিটি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিআইডির ফরেনসিক ইউনিটের কর্মকর্তারা বলেন, মরদেহ উত্তোলনের পর প্রতিটি দেহ পৃথকভাবে পরীক্ষা করা হবে, সংগ্রহ করা হবে অস্থি, দাঁত ও টিস্যুর নমুনা। এসব নমুনা ডিএনএ ল্যাবে পাঠানো হবে, যেখানে পরবর্তীতে স্বজনদের দেওয়া নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল হলেও সিআইডি আশা করছে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে। স্বজনহারা পরিবারগুলোও বহুদিন ধরে অপেক্ষা করছেন তাদের প্রিয়জনের পরিচয় ফিরে পাওয়ার আশায়।
এই উদ্যোগকে আন্দোলনের শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রের ন্যূনতম নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা আশা করছেন, ডিএনএ শনাক্তকরণ সম্পন্ন হলে শুধু পরিচয়ই নয়—প্রতিটি মৃত্যু কী প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, তা তদন্তের নতুন দ্বারও খুলে যাবে।













