প্রাথমিকের ৪২ শিক্ষককে ভিন্ন জেলায় বদলি
- Update Time : ১০:৩৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১১৫ Time View

তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অসংখ্য সহকারী শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ করে ভিন্ন জেলায় বদলি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া পাঁচজনসহ মোট ৪২ জনকে মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ আদেশে পাশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক আদেশে এসব বদলির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষকদের বদলি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তালিকায় আন্দোলনের পাঁচ শীর্ষ নেতার নাম রয়েছে।
তারা হলেন- প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি; বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও নোয়াখালী সদরের কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শামছুদ্দীন মাসুদ; বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার চানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আবুল কাশেম; প্রাথমিক শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক ও জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মাহবুবার রহমান এবং কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান।
ওই আদেশে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষকদের সবাইকে পাশের জেলায় বদলি করা হয়েছে। এতে করে নিজ জেলার কর্মস্থলে থাকার সুযোগ থাকছে না তাদের।
এর আগে, অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়, নোয়াখালীর মো. শামছুদ্দীন মাসুদকে প্রশাসনিক কারণে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর দক্ষিণ চরলক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যমান শূন্য পদে নিজ বেতনস্কেলে বদলি করা হয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে আহ্বায়ক শামছুদ্দীন মাসুদ জানান, সারাদেশে ৫০০ থেকে ৫৫০ জন সহকারী শিক্ষককে ভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। শুধু নোয়াখালী জেলাতেই প্রায় ৪০ জন শিক্ষককে এভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তিন দফা দাবিতে গত ২৭ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন দেশের ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা।
প্রাথমিকের ৪২ শিক্ষককে ভিন্ন জেলায় বদলি: আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ায় ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’
তিন দফা দাবিতে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ওপর প্রশাসনিক কঠোরতা আরও বাড়ল। আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৪২ জন সহকারী শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ করে ভিন্ন জেলায় বদলি করেছে। বদলি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আন্দোলনের পাঁচ শীর্ষ নেতা।
গত বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা সর্বশেষ আদেশে এই বদলির অনুমোদন দেওয়া হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি স্মারকের ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদেরকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও রয়েছে।
শীর্ষ নেতাদের বদলি
বদলি হওয়া পাঁচজন আন্দোলনকারী নেতা হলেন—
১) প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি।
২) বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং নোয়াখালী কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শামছুদ্দীন মাসুদ।
৩) বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার চানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আবুল কাশেম।
৪) প্রাথমিক শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক ও জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মাহবুবার রহমান।
৫) কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান।
আদেশ অনুযায়ী, এসব সহকারী শিক্ষককে পাশের বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। অর্থাৎ নিজ জেলা বা পূর্ববর্তী কর্মস্থলে থাকার সুযোগ আর থাকছে না।
অধিদপ্তরের আগের আদেশে বলা হয়, নোয়াখালীর শামছুদ্দীন মাসুদকে প্রশাসনিক কারণে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর দক্ষিণ চরলক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যমান শূন্য পদে বদলি করা হয়েছে। একই ধরনের সিদ্ধান্ত অন্যদের ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের দাবি—শাস্তিমূলক বদলি
আন্দোলনের আহ্বায়ক শামছুদ্দীন মাসুদ অভিযোগ করে বলেন, “সারাদেশে প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ জন সহকারী শিক্ষককে ভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। শুধু নোয়াখালী জেলাতেই ৪০ জনের মতো শিক্ষককে এভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে আন্দোলন দমনের একটি চেষ্টা।”
তবে মন্ত্রণালয় বলছে, সব বদলি ‘প্রশাসনিক প্রয়োজন’ বিবেচনায় করা হয়েছে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
গত ২৭ নভেম্বর থেকে দেশের ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের মূল দাবি—
• দশম গ্রেড বাস্তবায়ন
• বৈষম্যহীন বেতন কাঠামো
• উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা
কর্মবিরতির কারণে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রশাসন দাবি করছে, আন্দোলনের কারণে শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে শিক্ষকরা মনে করছেন, বদলি ও স্ট্যান্ড রিলিজের সিদ্ধান্ত তাদের ন্যায্য দাবি রুখে দেওয়ার এক ধরনের চাপ।
পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আন্দোলনের পরবর্তী ধাপের ওপর।













