বাংলাদেশে আসছেন জোবাইদা রহমান, খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে
- Update Time : ০২:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১০৬ Time View

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতে তাকে দেশে রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না।
ঢাকায় আসছেন জোবাইদা রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান লন্ডন থেকে শিগগিরই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। তিনি বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করবেন এবং চিকিৎসক দলের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে তাকে সঙ্গে নিয়ে লন্ডন যাত্রার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন।
পরিবার সূত্র জানায়, জোবাইদা রহমান খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য থেকে সমন্বয় করে আসছেন এবং মেডিকেল বোর্ডের অন্যতম সদস্য হিসেবে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
কাতারের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত
বৃহস্পতিবার কাতার সরকার জানায়, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। এতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ আরও সুগম হয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেশের সব মসজিদে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানায়।
শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি নেই
বুধবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস উইং জানায়—
গত ২৪ ঘণ্টায় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই, তবে চিকিৎসকরা এটিকে ‘স্থিতিশীল সংকটাপন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
তার ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, কিডনি এবং সাম্প্রতিক নিউমোনিয়ার জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। নতুন কোনো জটিলতা দেখা না দিলেও উন্নতির কোন লক্ষণ নেই।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত চিকিৎসা
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের নেতৃত্বে আছেন অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার। এই বোর্ডে দেশি চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও চীন থেকে আগত বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত হয়েছেন।
গত বুধবার যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রিচার্ড বিল ঢাকায় এসে চিকিৎসক দলের সঙ্গে যুক্ত হন। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের যুক্ত হওয়ায় চিকিৎসা পরামর্শ আরও বিস্তৃত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৩ নভেম্বর গুরুতর ফুসফুস ও হৃদসংক্রমণ নিয়ে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার অবস্থা অবনতি ঘটতে থাকায় ১ ডিসেম্বর তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়।
লন্ডনে নেওয়া এখন সময়ের ব্যাপার
পরিবার, মেডিকেল বোর্ড এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে নির্দেশনা একটাই:
বাংলাদেশে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব নয়; দ্রুত লন্ডনে নেওয়াই একমাত্র কার্যকর উপায়।
জোবাইদা রহমান ঢাকায় পৌঁছানোর পর তার যাত্রার সম্ভাব্য তারিখ, চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে জানা গেছে।













