সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুম ও নির্যাতনের মামলায় ১০ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১০২ Time View

 

টানা ক্ষমতাকালীন সময়ে টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ১০ কর্মকর্তাকে আজ (৩ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। একই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সকালে ১০টা ২৩ মিনিটে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে ‘বাংলাদেশ জেল–প্রিজন ভ্যান’ লেখা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সবুজ ভ্যানে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

হাজির করা সেনা কর্মকর্তারা

  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম (র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক)
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম
  • কর্নেল কেএম আজাদ
  • কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন
  • কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন)
  • কর্নেল মো. মশিউর রহমান (সাবেক র‍্যাব গোয়েন্দা শাখার পরিচালক)
  • লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন
  • লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম

পলাতক আসামিরা

  • সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
  • সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক
  • সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
  • সাবেক আইজিপি ড. বেনজির আহমেদ
  • র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন
  • ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ

শুনানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আজ বেলা ১১টার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হবে। প্রথমে প্রসিকিউশন, এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা।

আদালত প্রাঙ্গণজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের মূল ফটক এবং ট্রাইব্যুনাল এলাকার দুই পাশে পুলিশ, সেনা, র‍্যাব, বিজিবি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের টহল দেখা গেছে।

পূর্বের শুনানি গ্রেপ্তারি পরিপ্রেক্ষিত

২৩ নভেম্বর শুনানির জন্য আজকের দিন ঠিক করা হয়। ওই দিন সেনানিবাসের বিশেষ কারাগারে থাকা ১০ কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। যদিও তাদের আইনজীবীরা ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন করেছিলেন, এ বিষয়ে আজ পুনরায় শুনানি হবে।

এর আগে ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১০ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পলাতক আসামিদের সাত দিনের মধ্যে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হাজির হতে বলা হলেও কেউ হাজির হয়নি, তাই তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করা হয়েছে। ৮ অক্টোবর মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব

টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অভিযোগে সশরীরে সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দেশটির অঙ্গীকার এবং ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতার চিত্র ফুটিয়ে তোলে। পলাতক আসামিদের উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলার যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া চালু হবে এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গুম ও নির্যাতনের মামলায় ১০ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির

Update Time : ১১:১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

 

টানা ক্ষমতাকালীন সময়ে টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ১০ কর্মকর্তাকে আজ (৩ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। একই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সকালে ১০টা ২৩ মিনিটে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে ‘বাংলাদেশ জেল–প্রিজন ভ্যান’ লেখা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সবুজ ভ্যানে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

হাজির করা সেনা কর্মকর্তারা

  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম (র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক)
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম
  • কর্নেল কেএম আজাদ
  • কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন
  • কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন)
  • কর্নেল মো. মশিউর রহমান (সাবেক র‍্যাব গোয়েন্দা শাখার পরিচালক)
  • লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন
  • লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম

পলাতক আসামিরা

  • সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
  • সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক
  • সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
  • সাবেক আইজিপি ড. বেনজির আহমেদ
  • র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন
  • ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ

শুনানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আজ বেলা ১১টার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হবে। প্রথমে প্রসিকিউশন, এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা।

আদালত প্রাঙ্গণজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের মূল ফটক এবং ট্রাইব্যুনাল এলাকার দুই পাশে পুলিশ, সেনা, র‍্যাব, বিজিবি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের টহল দেখা গেছে।

পূর্বের শুনানি গ্রেপ্তারি পরিপ্রেক্ষিত

২৩ নভেম্বর শুনানির জন্য আজকের দিন ঠিক করা হয়। ওই দিন সেনানিবাসের বিশেষ কারাগারে থাকা ১০ কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। যদিও তাদের আইনজীবীরা ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন করেছিলেন, এ বিষয়ে আজ পুনরায় শুনানি হবে।

এর আগে ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১০ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পলাতক আসামিদের সাত দিনের মধ্যে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হাজির হতে বলা হলেও কেউ হাজির হয়নি, তাই তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করা হয়েছে। ৮ অক্টোবর মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব

টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অভিযোগে সশরীরে সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দেশটির অঙ্গীকার এবং ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতার চিত্র ফুটিয়ে তোলে। পলাতক আসামিদের উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলার যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া চালু হবে এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত হবে।