নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানালো বিএনপি
- Update Time : ১০:৫৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১১১ Time View

গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে বার্তা পাঠিয়েছেন, তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও আঞ্চলিক সম্পর্কের জটিলতার মধ্যেও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে মোদির প্রকাশ্য উদ্বেগকে একটি ‘মানবিক কূটনীতি’ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে নরেন্দ্র মোদি লিখেন, বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার খবর তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। বাংলাদেশের গণজীবনে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং দেশের গণতন্ত্রে তার অবদানের কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, “তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। যেকোনো প্রকার সহায়তা প্রয়োজন হলে ভারত সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”
মোদির এই বার্তা প্রকাশের পরপরই বিএনপি তাদের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানায়। বার্তায় দলের পক্ষ থেকে বলা হয়—বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা ও উদ্বেগ বিএনপি আন্তরিকভাবে স্বীকার করছে এবং এজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে এ ধরনের সদিচ্ছা ও সম্ভাব্য সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতিকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ ও মানবিক অঙ্গীকার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সংকটাপন্ন চিকিৎসা পরিস্থিতি
৮০ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। প্রথমে ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লেও পরে তা বহুমাত্রিক জটিলতায় রূপ নেয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয় এবং প্রয়োজনে ভেন্টিলেশনসহ জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা দেওয়া হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিক তার চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছে।
চিকিৎসক সূত্র এবং বিএনপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শারীরিক অবস্থায় এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতির ইঙ্গিত নেই। দলের ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান বলেন, “চিকিৎসকেরা প্রায় সব ধরনের চিকিৎসা প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু উনি অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন। এখন জাতির কাছে দোয়া চাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই।”
একই সুরে কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞরা দিনরাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু বেগম জিয়ার অবস্থা এখনো অত্যন্ত নাজুক।
দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য জটিলতা
বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার রোগ, কিডনির জটিলতা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, দৃষ্টিজনিত সমস্যা এবং বাড়তি বয়সজনিত নানা অসুবিধায় ভুগছেন। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কারণে তিনি চার মাস লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে চলতি বছরের ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। কিন্তু দেশে ফিরে কয়েক মাসের মধ্যেই তার শারীরিক সমস্যা আবারও জটিল আকার ধারণ করে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব
বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যহীনতার বিষয়টি শুধু মানবিক বা চিকিৎসাগত প্রেক্ষাপটেই গুরুত্ব পাচ্ছে না—দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও এর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া রয়েছে। জাতীয় রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে কী প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক বিশ্লেষণও শুরু হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ ছাড়াও আঞ্চলিক কূটনীতিতে সৌহার্দ্যের বার্তা দেওয়া ভারতের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপও হতে পারে। বিএনপির পক্ষ থেকেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে এ বার্তাকে উষ্ণভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।













