আদালত অবমাননার অভিযোগে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানকে ট্রাইব্যুনালে তলব
- Update Time : ০১:৫০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
- / ১১৪ Time View

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে বিরূপ ও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ফজলুর রহমানকে আদালত অবমাননার ব্যাখ্যা দিতে ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি আগামী ৮ ডিসেম্বর ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
কি ছিল অভিযোগ?
২৬ নভেম্বর ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করে প্রসিকিউশন। অভিযোগে বলা হয়, ২৩ নভেম্বর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জনপ্রিয় টকশো ‘মুক্তবাক: রাজনীতির তর্ক-বিতর্ক’-এ অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কিত বিতর্কিত ও অপমানজনক মন্তব্য করেন তিনি। ৪৯ মিনিটের সেই টকশোর ভিডিও ইতোমধ্যে পেনড্রাইভসহ ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছেন প্রসিকিউটররা। শুনানির সময় ভিডিওর কিছু অংশ আদালতে বাজিয়েও শোনানো হয়।
ফজলুর রহমানের মন্তব্য যা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে
ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রসঙ্গ উঠতেই ফজলুর রহমান বলেন,
“আমি প্রথম দিন থেকেই বলছি—এই কোর্ট আমি মানি না।”
উপস্থাপক পাল্টা প্রশ্ন করলে তিনি আরও বলেন,
“সবাই জানে। ইউটিউবে শুনুন। টকশোতে বলেছি, ইউটিউবে বলেছি—এই কোর্ট আমি মানি না, এই কোর্টের বিচার আমি মানি না। যদি না বলে থাকি এখন বললে ভুল, আমি ক্ষমা চাই। কিন্তু প্রতিদিন বলছি—এই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার হতে পারে না।”
তিনি আরও দাবি করেন,
“এই কোর্টের গঠনপ্রক্রিয়াই এমন যে এখানে ন্যায়বিচার হতে পারে না। প্রসিকিউশনের সবাই শিবির সমর্থিত।”
জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর এমন মন্তব্যে আদালত অবমাননার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য
শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং গাজী এমএইচ তামিম। তামিম বলেন,
“ট্রাইব্যুনাল আইন সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না রেখেই ফজলুর রহমান এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন ট্রাইব্যুনাল কেবল ১৯৭১ সালের রাজাকারদের বিচার করার জন্য গঠিত হয়েছিল।”
তিনি আরও জানান, ফজলুর রহমান বিএনপির উপদেষ্টা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এমপি প্রার্থী। এর আগে ‘জুলাই বিপ্লব’ প্রসঙ্গে মন্তব্য করায় তাকে বিএনপি সাময়িকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দিয়েছিল।
ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ
আদালত মন্তব্য করে বলেন—
“ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। এ আইনের অধীনে ১৯৭৩ সালের আগে কিংবা পরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের রয়েছে। প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিচারপতি মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মন্তব্য করেন যে, ফজলুর রহমানের বক্তব্য পরিষ্কারভাবেই আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়ে। ফলে তার ব্যাখ্যা গ্রহণের জন্য সশরীরে উপস্থিত হওয়া প্রয়োজন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সবশেষে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেন, ফজলুর রহমানকে আগামী ৮ ডিসেম্বর সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। ওইদিন তার বক্তব্য শোনার পর আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।













