হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত আল্লাহ যেন খালেদা জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখেন: হাসনাত আব্দুল্লাহ
- Update Time : ০১:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ১১৫ Time View

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি বলেন— “হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত আল্লাহ যেন উনাকে বাঁচিয়ে রাখেন।” তার এই বক্তব্য মুহূর্তেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে ‘রাষ্ট্রীয় নিষ্ঠুরতা ও পরিকল্পিত চিকিৎসা অবহেলার শিকার’। তিনি বলেন, “যার কারণে উনার আজ এই শারীরিক অবস্থা হয়েছে, তা কোনো স্বাভাবিক চিকিৎসা-ব্যবস্থার ব্যর্থতা নয়। উনি একটি ক্লিনিক্যাল অপারেশনের মধ্য দিয়ে গেছেন, কিন্তু মেডিক্যালি যেভাবে অত্যাচার ও চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে—তা সম্পূর্ণ অমানবিক।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে কারাবন্দি অবস্থায় খালেদা জিয়াকে যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। হাসপাতালের বাইরে থেকে চিকিৎসক আনার চেষ্টা হলেই সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের ওপর নানাভাবে চাপ, ভয়ভীতি ও হয়রানি করা হতো। ফলে ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক বলেন, “আমরা শুনেছি, যারা চিকিৎসা করতে আসতেন, তাদের অনেককে হয়রানির মুখে পড়তে হতো। ডাক্তারদের ভয় দেখানো হতো। এতে বেগম জিয়ার চিকিৎসা বিঘ্নিত হয়েছে, আর সেই ধারাবাহিক অবহেলাই আজ তাকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে।”
তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও গণতান্ত্রিক সংকটের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “উনার সুস্থতা শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে লড়াই চলছে, সেই উত্তরণের পথ উনি যেন দেখে যেতে পারেন—এটাই আমাদের কামনা।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহকেই নয়, দেশের সাধারণ মানুষ থেকেও শুরু করে প্রবাসী সম্প্রদায়—সকলেই খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া করছেন। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের
হাসনাত আব্দুল্লাহর এমন উত্তপ্ত বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনই উত্তপ্ত যে অসুস্থতা, মানবিকতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা—সবকিছুই এক স্রোতে মিশে গেছে।













