সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুগলকে ছয় মাসে ২৭৯ কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ অন্তর্বর্তী সরকারের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১০৪ Time View

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল (অ্যালফাবেট) ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসের স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পাঠানো কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এই সময়ের মধ্যে সরকার মোট ২৭৯টি অনুরোধ পাঠিয়েছে, যার অধিকাংশই ছিল সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়ার দাবি।

আগের সরকারের তুলনায় অনুরোধ কম, আইটেমও কম

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ছয় মাসে সরকার গুগলকে মোট ১,০২৩টি কনটেন্ট আইটেম সরানোর অনুরোধ করেছে। তুলনায় ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে—যখন ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার—অনুরোধের সংখ্যা ছিল ৩৩৭টি, আর আইটেমের সংখ্যা ছিল ৪,৪৭০টি
অর্থাৎ অনুরোধের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে, তবে অপসারণযোগ্য আইটেমের পরিমাণ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সমালোচনামূলক কনটেন্টই ছিল প্রধান লক্ষ্য

গুগলের রিপোর্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের পাঠানো অনুরোধগুলোর মধ্যে

  • ১৮১টি অনুরোধ ছিল সরাসরি সরকারের সমালোচনামূলক কনটেন্ট অপসারণের বিষয়ে,
  • ৩৮টি অনুরোধ ছিল নিয়ন্ত্রিত পণ্য ও সেবাবিষয়ক,
  • ৩২টি মানহানির অভিযোগে।

সমালোচনামূলক কনটেন্ট সম্পর্কিত ১৮১টি অনুরোধই ছিল ইউটিউব ভিডিও সরানোর দাবি। এসব অভিযোগের বড় অংশই পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে।

গুগলের প্রতিক্রিয়া: অধিকাংশ অনুরোধেই তথ্য ছিল অসম্পূর্ণ

গুগল জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো আইটেমগুলোর ৬৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে যথেষ্ট তথ্য ছিল না, যার ফলে অনুরোধগুলো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
বাকি অংশে গুগলের পদক্ষেপ ছিল এমন—

  • ১৬.১% ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি,
  • ৯% কনটেন্ট আগেই সরানো ছিল,
  • ২.৫% আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে সরানো হয়েছে,
  • ৩.৭% নীতিনির্ধারণ অনুযায়ী সরানো হয়েছে,
  • ৩.৫% ক্ষেত্রে অনুরোধকৃত কনটেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ থেকে ইউটিউব সরিয়েছে লাখের বেশি ভিডিও

গুগলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউটিউব জানিয়েছে, কমিউনিটি গাইডলাইন ভঙ্গের কারণে বাংলাদেশ থেকে

লাখ ২১ হাজার ৬৫৫টি ভিডিও সরানো হয়েছে—যা আগের সময়ের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্য।

সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল—নতুন আইনে কনটেন্ট ব্লকের ক্ষমতা

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে পুরনো সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করেছে। এর ধারা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ব্লক করার অনুরোধ পাঠাতে পারে বিটিআরসি।
আগের আইনেও এ ব্যবস্থা ছিল, তবে নতুন করে যুক্ত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত—
কোনো কনটেন্ট ব্লক করলে সরকারকে সেটির তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

এই বিধান কার্যকর হলে মানুষ জানতে পারবে সরকার কোন ধরনের সমালোচনামূলক কনটেন্ট ব্লক করছে।

স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন

ডিজিটালি রাইটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, “নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী ব্লক হওয়া সব কনটেন্টের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।”
তিনি আরও মনে করেন, তথ্য প্রকাশ হলে নাগরিকরা বুঝতে পারবেন সরকার কোন ধরনের সমালোচনা বা বক্তব্য সরাতে চাইছে—এটি গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গুগলকে ছয় মাসে ২৭৯ কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ অন্তর্বর্তী সরকারের

Update Time : ১০:০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল (অ্যালফাবেট) ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসের স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পাঠানো কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এই সময়ের মধ্যে সরকার মোট ২৭৯টি অনুরোধ পাঠিয়েছে, যার অধিকাংশই ছিল সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়ার দাবি।

আগের সরকারের তুলনায় অনুরোধ কম, আইটেমও কম

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ছয় মাসে সরকার গুগলকে মোট ১,০২৩টি কনটেন্ট আইটেম সরানোর অনুরোধ করেছে। তুলনায় ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে—যখন ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার—অনুরোধের সংখ্যা ছিল ৩৩৭টি, আর আইটেমের সংখ্যা ছিল ৪,৪৭০টি
অর্থাৎ অনুরোধের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে, তবে অপসারণযোগ্য আইটেমের পরিমাণ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সমালোচনামূলক কনটেন্টই ছিল প্রধান লক্ষ্য

গুগলের রিপোর্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের পাঠানো অনুরোধগুলোর মধ্যে

  • ১৮১টি অনুরোধ ছিল সরাসরি সরকারের সমালোচনামূলক কনটেন্ট অপসারণের বিষয়ে,
  • ৩৮টি অনুরোধ ছিল নিয়ন্ত্রিত পণ্য ও সেবাবিষয়ক,
  • ৩২টি মানহানির অভিযোগে।

সমালোচনামূলক কনটেন্ট সম্পর্কিত ১৮১টি অনুরোধই ছিল ইউটিউব ভিডিও সরানোর দাবি। এসব অভিযোগের বড় অংশই পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে।

গুগলের প্রতিক্রিয়া: অধিকাংশ অনুরোধেই তথ্য ছিল অসম্পূর্ণ

গুগল জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো আইটেমগুলোর ৬৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে যথেষ্ট তথ্য ছিল না, যার ফলে অনুরোধগুলো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
বাকি অংশে গুগলের পদক্ষেপ ছিল এমন—

  • ১৬.১% ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি,
  • ৯% কনটেন্ট আগেই সরানো ছিল,
  • ২.৫% আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে সরানো হয়েছে,
  • ৩.৭% নীতিনির্ধারণ অনুযায়ী সরানো হয়েছে,
  • ৩.৫% ক্ষেত্রে অনুরোধকৃত কনটেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ থেকে ইউটিউব সরিয়েছে লাখের বেশি ভিডিও

গুগলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউটিউব জানিয়েছে, কমিউনিটি গাইডলাইন ভঙ্গের কারণে বাংলাদেশ থেকে

লাখ ২১ হাজার ৬৫৫টি ভিডিও সরানো হয়েছে—যা আগের সময়ের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্য।

সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল—নতুন আইনে কনটেন্ট ব্লকের ক্ষমতা

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে পুরনো সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করেছে। এর ধারা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ব্লক করার অনুরোধ পাঠাতে পারে বিটিআরসি।
আগের আইনেও এ ব্যবস্থা ছিল, তবে নতুন করে যুক্ত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত—
কোনো কনটেন্ট ব্লক করলে সরকারকে সেটির তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

এই বিধান কার্যকর হলে মানুষ জানতে পারবে সরকার কোন ধরনের সমালোচনামূলক কনটেন্ট ব্লক করছে।

স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন

ডিজিটালি রাইটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, “নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী ব্লক হওয়া সব কনটেন্টের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।”
তিনি আরও মনে করেন, তথ্য প্রকাশ হলে নাগরিকরা বুঝতে পারবেন সরকার কোন ধরনের সমালোচনা বা বক্তব্য সরাতে চাইছে—এটি গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।