নির্বাচন ঠেকাতে চাইলে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: সিইসি
- Update Time : ০৪:৩৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
- / ১০৬ Time View

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যারা নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিচ্ছেন বা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”
বুধবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকার পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরে ‘বিজিবির নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ও মহড়া’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বাত্মক প্রস্তুতি
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ১,২১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশে সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহড়া, বিশেষ প্রশিক্ষণ ও পরিস্থিতিগত প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন,
“এটি আমার তৃতীয় মহড়া পরিদর্শন। এর আগে পুলিশ এবং আনসার–ভিডিপির মহড়া দেখেছি। সব বাহিনীই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি মনে করেন, এসব মহড়া মাঠপর্যায়ে দক্ষতা বাড়াবে এবং নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সবার সহযোগিতা চাইলেন সিইসি
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দেশের ১৩ কোটি ভোটারের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সিইসি বলেন,
“আমরা জাতিকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি—একটি সুন্দর, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন—তা অর্জনে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না।”
সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর দায়িত্বে বিজিবি
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, সীমান্তবর্তী ১১৫টি উপজেলার মধ্যে ৬০টি উপজেলাতে বিজিবি এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে। সন্দ্বীপ, হাতিয়া ও কুতুবদিয়া ছাড়া দেশের সব সীমান্ত-ঘেঁষা উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন থাকবে, যাতে অপতৎপরতা বা অনুপ্রবেশ-সংক্রান্ত কোনো ঝুঁকি না থাকে।
উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি ও মতবিনিময়
মহড়া শেষে সিইসি বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ শাকিল আহমেদ হলে বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন—নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ, ইসি সচিব, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা।
সার্বিকভাবে ইসির বার্তা পরিষ্কার—
নির্বাচনকে ঘিরে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা, ভয়ভীতি কিংবা প্রতিহত করার প্রচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না; আইন ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।













