লটারিতে চূড়ান্ত হলো ৬৪ জেলার এসপি
- Update Time : ০৯:৪১:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৩০ Time View
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তর মাঠপর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর প্রস্তুতি শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ ও বদলির জন্য এবার প্রথমবারের মতো ম্যানুয়াল লটারির আয়োজন করে সরকার। সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’য় অনুষ্ঠিত এ লটারির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য এসপি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
লটারির সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করার লক্ষ্যে এই পদ্ধতি গ্রহণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো লটারির পদ্ধতি
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারীরা কারা হবেন—এ বিষয়ে যেন কোনো সন্দেহ বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে, সেজন্যই এবার বিশেষভাবে ম্যানুয়াল লটারির মাধ্যমে নির্বাচন-সংক্রান্ত এসপি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
লটারি আয়োজনের আগে কয়েক দফায় যাচাই-বাছাই করা হয়।
- অতীতে যেসব কর্মকর্তা জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
- পুলিশ ক্যাডারের ২৫তম, ২৬তম ও ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে যোগ্যদের নিয়ে প্রস্তুত করা হয় একটি ‘ফিট লিস্ট’।
- এরপর সেই তালিকা থেকেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় লটারির মাধ্যমে ৬৪ কর্মকর্তাকে নির্বাচন করা হয়।
এই উদ্যোগকে দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৬৪ জেলার মধ্যে ১৫ জন নতুন এসপি, ৪৯ জনের বদলি
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ৬৪ জেলার এসপিদের মধ্যে ১৫ জনকে সরিয়ে তাঁদের স্থলে নতুন ১৫ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
অন্যদিকে বাকি ৪৯ জন কর্মকর্তাকে বর্তমান জেলা থেকে
নতুন–পুরোনো এই ৬৪ জন কর্মকর্তাকেই সমন্বয় করে লটারির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলায় নির্বাচিত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই–এক দিনের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি হবে, এরপর এসপিরা নতুন দায়িত্ব নিতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও তত্ত্বাবধানে সিদ্ধান্ত
এর আগে ২২ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইন–শৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নির্বাচনকালীন এসপি নিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—
- কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
- আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
- উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
- প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি
- আইজিপি বাহারুল আলম
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলাগুলোকে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী এ, বি ও সি—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে লটারি পরিচালনা করা হবে।
এ, বি, সি—তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ হলো জেলা
নির্বাচনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ৬৪টি জেলা তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়—
- এ ক্যাটাগরি: ২৭টি জেলা
- বি ক্যাটাগরি: ২৮টি জেলা
- সি ক্যাটাগরি: বাকি জেলাগুলো
প্রতিটি গ্রুপের জন্য আলাদা লটারি আয়োজন করা হয়, যাতে একই ঝুঁকির মাত্রার জেলাগুলোতে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাসম্পন্ন কর্মকর্তা পাঠানো যায়।
শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ, মাঠে নামবেন লটারিতে নির্বাচিত এসপিরা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, লটারিতে নির্বাচিত এসপিদের খুব দ্রুতই সংশ্লিষ্ট জেলায় দায়িত্ব নিতে বলা হবে। নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্র, ভোটার নিরাপত্তা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন, সংঘাত প্রতিরোধ, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়—সব ক্ষেত্রেই এই কর্মকর্তারা হবে মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
তাঁরাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠপর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নেতৃত্ব দেবেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন।














