সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গত ১৫ বছর অনেক সাংবাদিক নিজ উদ্যোগে ফ্যাসিবাদ সমর্থন করেছে—ফখরুল

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:০৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১২৪ Time View

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দেশের অনেক সাংবাদিক নিজ উদ্যোগেই “ফ্যাসিবাদকে সমর্থন” করেছেন। তার ভাষায়, রাজনৈতিক চাপ, পেশাগত বিভাজন এবং কিছু সংবাদকর্মীর ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের বর্তমান সংকট, রাজনৈতিক প্রভাব, সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা পরিবেশ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

ফখরুল বলেন, “বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, আমরা গণমাধ্যমের বিকাশ ও স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছি। কিন্তু গত ১৫ বছর অনেক সাংবাদিক স্বেচ্ছায় ফ্যাসিবাদের সমর্থক হয়ে উঠেছেন। নিজেদের পেশাদার বিভক্তির কারণে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির ‘পকেটে’ ঢুকে পড়েছেন। এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চা ব্যাহত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সমাজে ঐক্যের অভাব, গোষ্ঠীবাজি এবং স্বার্থের রাজনীতি—এগুলো গণমাধ্যমের জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে জনগণের জানার অধিকার সংকুচিত হয়েছে এবং গণতন্ত্র দুর্বল হয়েছে।

বিএনপি গণমাধ্যমবান্ধব নীতি অনুসরণ করে এসেছে দাবি করে তিনি আশ্বস্ত করেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের দাবিসহ সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।”

ফখরুল মনে করেন, গণমাধ্যম সংস্কারের জন্য স্বাধীন কমিশন গঠন, প্রেস স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সাংবাদিকদের ওপর হয়রানি বন্ধ করা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো বিতর্কিত আইন বাতিল করা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকে শক্তিশালী না করলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে না।”

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গত ১৫ বছর অনেক সাংবাদিক নিজ উদ্যোগে ফ্যাসিবাদ সমর্থন করেছে—ফখরুল

Update Time : ০৫:০৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দেশের অনেক সাংবাদিক নিজ উদ্যোগেই “ফ্যাসিবাদকে সমর্থন” করেছেন। তার ভাষায়, রাজনৈতিক চাপ, পেশাগত বিভাজন এবং কিছু সংবাদকর্মীর ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের বর্তমান সংকট, রাজনৈতিক প্রভাব, সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা পরিবেশ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

ফখরুল বলেন, “বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, আমরা গণমাধ্যমের বিকাশ ও স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছি। কিন্তু গত ১৫ বছর অনেক সাংবাদিক স্বেচ্ছায় ফ্যাসিবাদের সমর্থক হয়ে উঠেছেন। নিজেদের পেশাদার বিভক্তির কারণে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির ‘পকেটে’ ঢুকে পড়েছেন। এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চা ব্যাহত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সমাজে ঐক্যের অভাব, গোষ্ঠীবাজি এবং স্বার্থের রাজনীতি—এগুলো গণমাধ্যমের জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে জনগণের জানার অধিকার সংকুচিত হয়েছে এবং গণতন্ত্র দুর্বল হয়েছে।

বিএনপি গণমাধ্যমবান্ধব নীতি অনুসরণ করে এসেছে দাবি করে তিনি আশ্বস্ত করেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের দাবিসহ সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।”

ফখরুল মনে করেন, গণমাধ্যম সংস্কারের জন্য স্বাধীন কমিশন গঠন, প্রেস স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সাংবাদিকদের ওপর হয়রানি বন্ধ করা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো বিতর্কিত আইন বাতিল করা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকে শক্তিশালী না করলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে না।”