সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির ১৩ সেনা কর্মকর্তা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৩২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৫৪ Time View

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের সময়কাল ধরে টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল এবং জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা ‘আয়নাঘর’-এ বিরোধী মতাদর্শের লোকদের গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলায় সেনাবাহিনীর ১৩ কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এই দুই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও রয়েছে।

রোববার (২৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে প্রিজনভ্যানে করে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে একে একে সেনা কর্মকর্তাদের হাজতখানায় নেওয়া হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে সকাল থেকেই পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সদস্যরা সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও নজরদারি করা দেখা গেছে।

আজ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে দুই মামলার ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানিতে এই সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে এবং পলাতক আসামি শেখ হাসিনা, তারেক সিদ্দিকী ও কামালের জন্য স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের বিষয়ও সমাধান হতে পারে।

এর আগে ২০ নভেম্বরের জন্য শুনানি নির্ধারিত থাকলেও তারিখ পেছানোর আবেদন গ্রহণ করে ২৩ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করা হয়। এরও আগে ২৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের প্যানেল শুনানির জন্য ২০ নভেম্বরের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। প্যানেলের অন্য সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

২২ অক্টোবর টিএফআই সেলের গুম-নির্যাতনের দুই মামলায় ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। সেই শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়। এর আগে ৮ অক্টোবর পৃথক দুই মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ গ্রহণের পর ট্রাইব্যুনাল-১ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং শুনানির জন্য ২২ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করে।

টিএফআই সেলে নির্যাতন ও গুম-খুনের অভিযোগে এক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন— সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‍্যাবের সাবেক ডিজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, র‍্যাব কর্মকর্তা কেএম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান, মাহবুব আলম, আবদুল্লাহ আল মোমেন, সারোয়ার বিন কাশেম, খায়রুল ইসলাম, মশিউর রহমান জুয়েল ও সাইফুল ইসলাম সুমন। ২২ অক্টোবর তাদের মধ্যে ১০ সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

অন্যদিকে আয়নাঘরে গুমের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলাতেও শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নাম রয়েছে। অন্যান্য আসামিরা হলেন— ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী ও লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।

বর্তমানে কারাবন্দি ১৩ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন— র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাব গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকী।

আজকের শুনানিতে এই কর্মকর্তাদের হাজিরা, গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির ১৩ সেনা কর্মকর্তা

Update Time : ১১:৩২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের সময়কাল ধরে টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল এবং জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা ‘আয়নাঘর’-এ বিরোধী মতাদর্শের লোকদের গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলায় সেনাবাহিনীর ১৩ কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এই দুই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও রয়েছে।

রোববার (২৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে প্রিজনভ্যানে করে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে একে একে সেনা কর্মকর্তাদের হাজতখানায় নেওয়া হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে সকাল থেকেই পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সদস্যরা সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও নজরদারি করা দেখা গেছে।

আজ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে দুই মামলার ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানিতে এই সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে এবং পলাতক আসামি শেখ হাসিনা, তারেক সিদ্দিকী ও কামালের জন্য স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের বিষয়ও সমাধান হতে পারে।

এর আগে ২০ নভেম্বরের জন্য শুনানি নির্ধারিত থাকলেও তারিখ পেছানোর আবেদন গ্রহণ করে ২৩ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করা হয়। এরও আগে ২৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের প্যানেল শুনানির জন্য ২০ নভেম্বরের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। প্যানেলের অন্য সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

২২ অক্টোবর টিএফআই সেলের গুম-নির্যাতনের দুই মামলায় ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। সেই শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়। এর আগে ৮ অক্টোবর পৃথক দুই মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ গ্রহণের পর ট্রাইব্যুনাল-১ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং শুনানির জন্য ২২ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করে।

টিএফআই সেলে নির্যাতন ও গুম-খুনের অভিযোগে এক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন— সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‍্যাবের সাবেক ডিজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, র‍্যাব কর্মকর্তা কেএম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান, মাহবুব আলম, আবদুল্লাহ আল মোমেন, সারোয়ার বিন কাশেম, খায়রুল ইসলাম, মশিউর রহমান জুয়েল ও সাইফুল ইসলাম সুমন। ২২ অক্টোবর তাদের মধ্যে ১০ সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

অন্যদিকে আয়নাঘরে গুমের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলাতেও শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নাম রয়েছে। অন্যান্য আসামিরা হলেন— ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী ও লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।

বর্তমানে কারাবন্দি ১৩ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন— র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাব গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকী।

আজকের শুনানিতে এই কর্মকর্তাদের হাজিরা, গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।