মন্ত্রী-বিচারপতিরা আদালতে উপস্থিত হতে পারলে আপনারা কেন পারবেন না
- Update Time : ০৯:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৯৭ Time View

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার শুনানিতে ভার্চুয়ালি হাজিরা দেওয়ার আবেদনকারী সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর মন্তব্য করেছে। আদালত স্পষ্টভাবে জানায়— “আইন সবার জন্য সমান। সাবেক প্রধান বিচারপতি, সাবেক মন্ত্রীরা সশরীরে আদালতে হাজির হন; তাহলে তারা (সেনা কর্মকর্তা) কেন পারবেন না?”
রবিবার (২৩ নভেম্বর) র্যাবের টিএফআই ও জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলার শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই মন্তব্য করা হয়। এদিন অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য পৃথকভাবে ৩ ডিসেম্বর এবং ৭ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের মন্তব্য: “অসক্ষমতা থাকলে জানাবেন, কিন্তু আইন সবার জন্য সমান”
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দু’সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানি গ্রহণ করে। অন্য সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হামিদুল মিজবাহ আদালতে ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনের পরই ট্রাইব্যুনাল প্যানেল প্রশ্ন তোলে—
“আপনাদের যদি কোনো অপারগতা থাকে, তাহলে আদালতকে জানান। আদালত ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু যারা রাষ্ট্রের শীর্ষ দায়িত্বে থেকেছেন — প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রীরা — তারাও সশরীরে হাজির হয়েছেন। সুতরাং আপনাদের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হতে পারে না।”
আদালত এ সময় স্পষ্ট করে জানায় যে, আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান এবং বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখানো প্রত্যেকের দায়িত্ব।
প্রসিকিউশনের সময় আবেদন মঞ্জুর
অন্য আইনজীবী মাসুদ সালাহউদ্দিন জানান, প্রসিকিউশন সময় চাইলে তারা তাতে সম্মতি দেন। ফলে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য নতুন তারিখ ৩ ও ৭ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়।
মামলার পটভূমি: সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
গুরুত্বপূর্ণ এই দুই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩০
বর্তমানে ১৩ জন আসামি গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন—যাদের অধিকাংশই র্যাব এবং সামরিক বাহিনীর সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক, র্যাব)
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম
- ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ
- কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন
- কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে)
- লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান (সাবেক পরিচালক, র্যাব গোয়েন্দা শাখা)
- লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন
- লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম
- মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন (সাবেক পরিচালক, ডিজিএফআই)
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী
সামনে কী?
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলাগুলো দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের কড়া মন্তব্য নতুনভাবে নজর কেড়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে। আগামী ৩ ও ৭ ডিসেম্বরের শুনানি এই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।













