সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভার্চুয়াল হাজিরা: অপরাধীরা আদালত এড়িয়ে যাওয়ার কারণ কী?

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:১৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৩৫ Time View

 

রোববার (২৩ নভেম্বর) ছিল আওয়ামী লীগ শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলার শুনানির দিন। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের নাম জড়িত।

তবে গ্রেপ্তার ১৩ জন সেনা কর্মকর্তা নিজে উপস্থিত না হয়ে আদালতে ভার্চুয়ালি হাজিরার আবেদন করেছেন। তাদের পক্ষের আইনজীবী মাইদুল ইসলাম পলক রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে হাজির হয়ে এ সংক্রান্ত আবেদন করেন।

আইনজীবী মাইদুল ইসলাম পলক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের ক্লায়েন্টরা নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত কারণে সশরীরে হাজিরা দিতে পারছেন না। তারা আদালতের সঙ্গে সহযোগিতার অংশ হিসেবে ভার্চুয়ালি হাজিরা দিতে আগ্রহী।”

এ ঘটনায় আদালত আবেদনটি গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনও চূড়ান্তভাবে জানানো হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভার্চুয়ালি হাজিরার আবেদন যেকোনো আসামির আইনি অধিকার হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে এটি বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর কিছু প্রশ্ন তোলে।

দেশের সাধারণ জনগণ এই ঘটনার প্রতি বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, সেনা কর্মকর্তারা যারা জনগণের করের টাকায় নিয়োজিত, তাদের উচিত সশরীরে উপস্থিত হয়ে আদালতের কাছে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা। অন্যদিকে, আইন ও প্রযুক্তির সুবিধার কারণে ভার্চুয়াল হাজিরা আইনগতভাবে সম্ভব হলেও এটি বিতর্ক সৃষ্টি করছে।

এই মামলা শুধু দেশের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের নজরেও রয়েছে। গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো সংবেদনশীল মামলায় আসামিদের উপস্থিতি—সশরীরে হোক বা ভার্চুয়ালি—ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতা রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ।

রোববারের এই আবেদনের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, প্রযুক্তির ব্যবহার আদালতের কার্যক্রমে এখন অনিবার্য হলেও, এটি কখনোই সশরীর উপস্থিতির পূর্ণ বিকল্প হতে পারে না।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভার্চুয়াল হাজিরা: অপরাধীরা আদালত এড়িয়ে যাওয়ার কারণ কী?

Update Time : ১২:১৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

 

রোববার (২৩ নভেম্বর) ছিল আওয়ামী লীগ শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলার শুনানির দিন। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের নাম জড়িত।

তবে গ্রেপ্তার ১৩ জন সেনা কর্মকর্তা নিজে উপস্থিত না হয়ে আদালতে ভার্চুয়ালি হাজিরার আবেদন করেছেন। তাদের পক্ষের আইনজীবী মাইদুল ইসলাম পলক রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে হাজির হয়ে এ সংক্রান্ত আবেদন করেন।

আইনজীবী মাইদুল ইসলাম পলক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের ক্লায়েন্টরা নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত কারণে সশরীরে হাজিরা দিতে পারছেন না। তারা আদালতের সঙ্গে সহযোগিতার অংশ হিসেবে ভার্চুয়ালি হাজিরা দিতে আগ্রহী।”

এ ঘটনায় আদালত আবেদনটি গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনও চূড়ান্তভাবে জানানো হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভার্চুয়ালি হাজিরার আবেদন যেকোনো আসামির আইনি অধিকার হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে এটি বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর কিছু প্রশ্ন তোলে।

দেশের সাধারণ জনগণ এই ঘটনার প্রতি বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, সেনা কর্মকর্তারা যারা জনগণের করের টাকায় নিয়োজিত, তাদের উচিত সশরীরে উপস্থিত হয়ে আদালতের কাছে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা। অন্যদিকে, আইন ও প্রযুক্তির সুবিধার কারণে ভার্চুয়াল হাজিরা আইনগতভাবে সম্ভব হলেও এটি বিতর্ক সৃষ্টি করছে।

এই মামলা শুধু দেশের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের নজরেও রয়েছে। গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো সংবেদনশীল মামলায় আসামিদের উপস্থিতি—সশরীরে হোক বা ভার্চুয়ালি—ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতা রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ।

রোববারের এই আবেদনের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, প্রযুক্তির ব্যবহার আদালতের কার্যক্রমে এখন অনিবার্য হলেও, এটি কখনোই সশরীর উপস্থিতির পূর্ণ বিকল্প হতে পারে না।