ঢাবির একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ
- Update Time : ০৮:৩৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ১০০ Time View

সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং পরবর্তী সময়ে টানা আফটার শকের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক স্থিতি ও অবকাঠামোগত ঝুঁকি বিবেচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) দুই সপ্তাহের জন্য ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে রবিবার (২৩ নভেম্বর) বিকেল ৫টার মধ্যে সব আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহু দশকের ইতিহাসে ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকির কারণে এই ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিরল ঘটনা।
শনিবার (২২ নভেম্বর) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
জরুরি ভার্চুয়াল সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান সভাপতিত্ব করেন। সভায় সিন্ডিকেট সদস্য ছাড়াও—
- চিকিৎসা অনুষদের ডিন,
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ,
- পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক,
- ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক
- এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী
উপস্থিত ছিলেন।
সভার আলোচনায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের তীব্রতা, বারবার পরবর্তী ঝাঁকুনি (আফটার শক) এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক-মানসিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ উঠে আসে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়—দুর্বল ভবন বা পুরোনো হলগুলোতে ক্ষুদ্র ফাটল বা কাঠামোগত দুর্বলতা থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
বুয়েট ও প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতামত
সিন্ডিকেট সভায় বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক এবং প্রধান প্রকৌশলীর মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। তাদের পর্যবেক্ষণ ছিল—
- ভূমিকম্পের পর আবাসিক হলগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ কাঠামোগত পরীক্ষা জরুরি।
- সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন না করে শিক্ষার্থীদের হলে রাখা নিরাপদ নয়।
- পরীক্ষা, সংস্কার ও শক্তিবৃদ্ধির কাজ করতে হলে হল খালি করতেই হবে।
তাদের এই সুপারিশের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপদ স্থানে ফিরে যেতে বলা হয়।
হল খালি করতে প্রাধ্যক্ষদের নির্দেশ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রবিবার বিকেল ৫টার মধ্যেই হলগুলো খালি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রাধ্যক্ষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তাঁরা হল ত্যাগ করে নিরাপদ পরিবেশে অবস্থান করেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিস যথারীতি খোলা থাকবে, যাতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন অব্যাহত রাখা যায়।
আগে ঘোষণা হয়েছিল একদিনের বন্ধ
এর আগে শুধু আগামীকাল রোববার ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী মূল্যায়নে দেখা যায়, ঝুঁকি আরও বেশি; তাই দেড় সপ্তাহের জন্য সম্পূর্ণ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সবচেয়ে বড় আবাসিক ও স্বায়ত্তশাসিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকিতে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ ও বিস্ময় তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, প্রশাসন meanwhile হলগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছে।










