সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আশুলিয়ায় ভূমিকম্প,নরসিংদীর পলাশের কম্পন ‘আফটার শক’ বলে বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১২৬ Time View

ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়া উপজেলার বাইপাইল এলাকায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা বিশেষজ্ঞরা শুক্রবারের বড় কম্পনেরই আফটার শক হিসেবে বিবেচনা করছেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে প্রায় ১২ সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনের মাত্রা রিখটার স্কেলে ছিল ৩ দশমিক ৩। হালকা কম্পন হলেও আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর ঠিক একদিন আগে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ কেঁপে ওঠে শক্তিশালী ভূমিকম্পে। নরসিংদীর মাধবদী থেকে উৎপত্তি হওয়া সেই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৭, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি।

ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবির জানান, আশুলিয়ায় অনুভূত ভূমিকম্পটি নরসিংদীর পলাশ এলাকায় উৎপত্তি হওয়া কম্পন, যা শুক্রবারের বড় ভূমিকম্পের পরবর্তী অনুরণন বা ‘আফটার শক’। তিনি বলেন, “আফটার শক সাধারণত মূল ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে ১০-২০ কিলোমিটার দূরত্বেও অনুভূত হতে পারে। তাই এটি একেবারেই স্বাভাবিক একটি ভূ-প্রতিক্রিয়া। তবে এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে, ভূত্বকের যে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি মুক্ত হয়নি।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “গত ১০০ বছরে ঢাকায় এমন ভূমিকম্প হয়নি, যেটি শুক্রবার হয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। রাজধানী ভূমিকম্পের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থান করছে। সামনে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

শুক্রবারের ভূমিকম্প: মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি
শনিবারের মৃদু কম্পনের আগের দিন শুক্রবারের ভূমিকম্পে শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ছয় শতাধিক মানুষ। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে অনেকেই ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন বা দৌড়াতে গিয়ে আহত হন। কিছু ভবনে ফাটল দেখা যায়, কোথাও কোথাও ভবন হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে নরসিংদীতে, যেখানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকায় চারজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন ভূমিকম্পে প্রাণ হারান।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী এবং এর কম্পন ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ ও নাজুক অবকাঠামোতে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিনের ব্যবধানে ধারাবাহিক কম্পন রাজধানীসহ দেশের ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি করছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার, ভবনগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আশুলিয়ায় ভূমিকম্প,নরসিংদীর পলাশের কম্পন ‘আফটার শক’ বলে বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা

Update Time : ০৪:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়া উপজেলার বাইপাইল এলাকায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা বিশেষজ্ঞরা শুক্রবারের বড় কম্পনেরই আফটার শক হিসেবে বিবেচনা করছেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে প্রায় ১২ সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনের মাত্রা রিখটার স্কেলে ছিল ৩ দশমিক ৩। হালকা কম্পন হলেও আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর ঠিক একদিন আগে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ কেঁপে ওঠে শক্তিশালী ভূমিকম্পে। নরসিংদীর মাধবদী থেকে উৎপত্তি হওয়া সেই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৭, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি।

ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবির জানান, আশুলিয়ায় অনুভূত ভূমিকম্পটি নরসিংদীর পলাশ এলাকায় উৎপত্তি হওয়া কম্পন, যা শুক্রবারের বড় ভূমিকম্পের পরবর্তী অনুরণন বা ‘আফটার শক’। তিনি বলেন, “আফটার শক সাধারণত মূল ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে ১০-২০ কিলোমিটার দূরত্বেও অনুভূত হতে পারে। তাই এটি একেবারেই স্বাভাবিক একটি ভূ-প্রতিক্রিয়া। তবে এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে, ভূত্বকের যে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি মুক্ত হয়নি।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “গত ১০০ বছরে ঢাকায় এমন ভূমিকম্প হয়নি, যেটি শুক্রবার হয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। রাজধানী ভূমিকম্পের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থান করছে। সামনে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

শুক্রবারের ভূমিকম্প: মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি
শনিবারের মৃদু কম্পনের আগের দিন শুক্রবারের ভূমিকম্পে শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ছয় শতাধিক মানুষ। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে অনেকেই ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন বা দৌড়াতে গিয়ে আহত হন। কিছু ভবনে ফাটল দেখা যায়, কোথাও কোথাও ভবন হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে নরসিংদীতে, যেখানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকায় চারজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন ভূমিকম্পে প্রাণ হারান।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী এবং এর কম্পন ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ ও নাজুক অবকাঠামোতে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিনের ব্যবধানে ধারাবাহিক কম্পন রাজধানীসহ দেশের ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি করছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার, ভবনগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন।