তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চাকরিচ্যুত: বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ চলাকালীনই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা
- Update Time : ০৭:২৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৩৬ Time View

বুনিয়াদি প্রশিক্ষণরত তিনজন সহকারী কমিশনারকে (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) সরকারি চাকরি থেকে চাকরিচ্যুত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৯ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এহছানুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সরকারি সেবায় শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
চাকরিচ্যুত তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যেসব কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হয়েছেন তারা হলেন—
- কাজী আরিফুর রহমান, যিনি ফরিদপুরে সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন।
- অনুপ কুমার বিশ্বাস, যিনি বগুড়ায় সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
- নবমিতা সরকার, যিনি পিরোজপুরে সহকারী কমিশনার পদে কর্মরত ছিলেন।
তিনজনই বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছিলেন।
কোন বিধির আওতায় অপসারণ?
চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১–এর বিধি ৬(২)(এ) অনুযায়ী। এই বিধি অনুসারে শিক্ষানবিশ বা ট্রেনিংরত কর্মকর্তাদের আচরণ, যোগ্যতা বা শৃঙ্খলা সংক্রান্ত গুরুতর কারণে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অপসারণ করা যেতে পারে। এই বিধিমালার আওতায় অপসারণের ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা কোনোপ্রকার বকেয়া সুবিধা বা চাকরির নিরাপত্তা পান না।
পাওনা থাকলে আদায় হবে আইনের মাধ্যমে
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা সরকারি চাকরিকালীন সময়ে রাষ্ট্রের কাছে কোনো আর্থিক পাওনা রেখে থাকলে তা ‘দ্য পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট, ১৯১৩’–এর আওতায় আদায় করা হবে। অর্থাৎ, তাদের কাছে থাকা সরকারের যেকোনো পাওনা আইনানুগভাবে রাষ্ট্র আদায়ের সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব রাখবে।
অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলায় সরকারের কঠোর অবস্থান
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও মান রক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রেনিং পর্যায়ে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা অত্যন্ত বিরল, যা বিষয়টির গুরুত্ব ও তদন্তের গভীরতাকে ইঙ্গিত করে। অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসদাচরণ, নৈতিক প্রশ্ন বা অন্যান্য গুরুতর কারণেই সাধারণত এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সরকারি সেবায় প্রবেশের পূর্ববর্তী পর্যায়েই এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ কর্মকর্তাদের জন্যও একটি সতর্ক বার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে, বিশেষজ্ঞদের এমন মতামত রয়েছে।
আপনি চাইলে আমি চাইলে এটিকে আরও বিশ্লেষণধর্মী, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটসহ বিস্তৃত করতে পারি।













