সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর ঢাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার আটক: ‘আই ডোন্ট কেয়ার’ ফটোকার্ড পোস্টে তোলপাড়

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৪৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৭৩ Time View

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ঢাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রায় ঘোষণার কিছু সময় পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ডেপুটি রেজিস্ট্রার লাভলু মোল্লা শিশির ‘আই ডোন্ট কেয়ার’ লেখা ফটোকার্ড পোস্ট করলে তা শিক্ষার্থী সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

রায় প্রকাশের পর সামাজিক জগতে এই পোস্টটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হওয়া এবং সমালোচনার সৃষ্টি হওয়ায় সোমবার (১৭ নভেম্বর) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিশিরকে আটক করে এবং শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। শিক্ষার্থীরা জানান, তারা এই কর্মকাণ্ডকে একটি ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে দেখছে।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা ফেসবুকে লিখেছেন, “লাভলুকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে এলাম। গণহত্যাকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ব্যাপারেও আমাদের একই অবস্থান থাকবে। কেউ তাদের নিয়ে সুশীলতা দেখালেও আমরা তাদেরও হিসাব নেব। আমরা এখানে কোনো তোষামোদ বা ক্ষমতার লোভে নেই; ২০০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তাদের জন্য ন্যায়বিচার আনার শপথ নিয়ে এসেছি। এখানে গাদ্দার ও গাদ্দারির কোনো স্থান নেই।”

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরও একই বিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করেন, “হাসিনার পক্ষে পোস্ট দেওয়া ঢাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার কট। প্রত্যেকটা ইঁদুরকেই গর্ত থেকে টেনে বের করা হবে, অপেক্ষা করুন।”

ঘটনা প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে (ডেপুটি রেজিস্ট্রার) থানায় সোপর্দ করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে।”

উল্লেখযোগ্য, গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মাত্র দুই মাস পরও ঢাবির ভিসি অফিসে দায়িত্বে ছিলেন এমন কিছু কর্মকর্তা–কর্মচারী, যাদের অনেকেই ছাত্রলীগপন্থি হিসেবে পরিচিত। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরে তাদের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এই পাঁচজন কর্মকর্তার মধ্যে একজন হলেন লাভলু

মোল্লা শিশির, যিনি ছাত্রজীবনে মাস্টারদা সূর্য সেন হলের ছাত্রলীগ সভাপতির পরিচয়ে খ্যাত ছিলেন।

শিক্ষার্থী সমাজের অংশ বিশেষ মনে করছে, এই ধরনের পোস্ট ও আচরণ শিক্ষার্থী আন্দোলনের চেতনাকে নষ্ট করতে পারে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আস্থা কমাতে পারে। এছাড়াও, সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি নতুনভাবে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর ঢাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার আটক: ‘আই ডোন্ট কেয়ার’ ফটোকার্ড পোস্টে তোলপাড়

Update Time : ১১:৪৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ঢাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রায় ঘোষণার কিছু সময় পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ডেপুটি রেজিস্ট্রার লাভলু মোল্লা শিশির ‘আই ডোন্ট কেয়ার’ লেখা ফটোকার্ড পোস্ট করলে তা শিক্ষার্থী সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

রায় প্রকাশের পর সামাজিক জগতে এই পোস্টটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হওয়া এবং সমালোচনার সৃষ্টি হওয়ায় সোমবার (১৭ নভেম্বর) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিশিরকে আটক করে এবং শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। শিক্ষার্থীরা জানান, তারা এই কর্মকাণ্ডকে একটি ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে দেখছে।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা ফেসবুকে লিখেছেন, “লাভলুকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে এলাম। গণহত্যাকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ব্যাপারেও আমাদের একই অবস্থান থাকবে। কেউ তাদের নিয়ে সুশীলতা দেখালেও আমরা তাদেরও হিসাব নেব। আমরা এখানে কোনো তোষামোদ বা ক্ষমতার লোভে নেই; ২০০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তাদের জন্য ন্যায়বিচার আনার শপথ নিয়ে এসেছি। এখানে গাদ্দার ও গাদ্দারির কোনো স্থান নেই।”

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরও একই বিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করেন, “হাসিনার পক্ষে পোস্ট দেওয়া ঢাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার কট। প্রত্যেকটা ইঁদুরকেই গর্ত থেকে টেনে বের করা হবে, অপেক্ষা করুন।”

ঘটনা প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে (ডেপুটি রেজিস্ট্রার) থানায় সোপর্দ করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে।”

উল্লেখযোগ্য, গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মাত্র দুই মাস পরও ঢাবির ভিসি অফিসে দায়িত্বে ছিলেন এমন কিছু কর্মকর্তা–কর্মচারী, যাদের অনেকেই ছাত্রলীগপন্থি হিসেবে পরিচিত। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরে তাদের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এই পাঁচজন কর্মকর্তার মধ্যে একজন হলেন লাভলু

মোল্লা শিশির, যিনি ছাত্রজীবনে মাস্টারদা সূর্য সেন হলের ছাত্রলীগ সভাপতির পরিচয়ে খ্যাত ছিলেন।

শিক্ষার্থী সমাজের অংশ বিশেষ মনে করছে, এই ধরনের পোস্ট ও আচরণ শিক্ষার্থী আন্দোলনের চেতনাকে নষ্ট করতে পারে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আস্থা কমাতে পারে। এছাড়াও, সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি নতুনভাবে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।