সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের হাতে কামড় দিয়ে পালালেন ছাত্রদল নেতা, সংঘর্ষে আহত তিন পুলিশ সদস্য

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৬২ Time View
বরিশালে ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের আদালতে নেওয়া হচ্ছে। আজ শনিবার সকালে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল নগরে গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের হাতে কামড় দিয়ে পালিয়ে গেছেন ছাত্রদলের এক শীর্ষ স্থানীয় নেতা। শুক্রবার গভীর রাতে নগরের ভাটারখাল এলাকায় এই উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হলে অন্তত তিন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা।

পলাতক আসামি মাসুম হাওলাদার বরিশাল নগরের ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে চলতি বছরের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, মাসুমকে আটক করতে শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে পুলিশের একটি দল ভাটারখাল এলাকায় অভিযান চালায়।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযানে গেলে মাসুমের পরিবারের সদস্যসহ আশপাশের আরও কয়েকজন হঠাৎ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। লাঠি ও ইট দিয়ে আক্রমণ চালানো হলে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাসিম হোসেনসহ তিনজন সদস্য আহত হন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে।

হামলার এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির মধ্যে মাসুম হাওলাদার এক পুলিশ সদস্যের হাতে কামড়িয়ে ফেলেন এবং সেই সুযোগে অন্ধকারের মধ্যেই পালিয়ে যান বলে জানান কর্মকর্তারা। তবে ঘটনাস্থল থেকেই মাসুমের স্ত্রী রিমি বেগম, ভাই সোহেল হাওলাদার, বোন শিল্পী আক্তার এবং বন্ধু রিফাতকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি, হামলা এবং পুলিশের ওপর আঘাতের অভিযোগে আজ শনিবার শহর উপপরিদর্শক (টিএসআই) মাহাবুব আলম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মাসুমসহ ১৫ জনকে নামীয় আসামি ও আরও ৬০–৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা মামলা নিয়েছি এবং চারজনকে আটক করেছি। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যারা হামলায় জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ বলছে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় বাড়তি প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পুলিশের হাতে কামড় দিয়ে পালালেন ছাত্রদল নেতা, সংঘর্ষে আহত তিন পুলিশ সদস্য

Update Time : ০৯:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
বরিশালে ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের আদালতে নেওয়া হচ্ছে। আজ শনিবার সকালে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল নগরে গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের হাতে কামড় দিয়ে পালিয়ে গেছেন ছাত্রদলের এক শীর্ষ স্থানীয় নেতা। শুক্রবার গভীর রাতে নগরের ভাটারখাল এলাকায় এই উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হলে অন্তত তিন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা।

পলাতক আসামি মাসুম হাওলাদার বরিশাল নগরের ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে চলতি বছরের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, মাসুমকে আটক করতে শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে পুলিশের একটি দল ভাটারখাল এলাকায় অভিযান চালায়।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযানে গেলে মাসুমের পরিবারের সদস্যসহ আশপাশের আরও কয়েকজন হঠাৎ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। লাঠি ও ইট দিয়ে আক্রমণ চালানো হলে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাসিম হোসেনসহ তিনজন সদস্য আহত হন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে।

হামলার এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির মধ্যে মাসুম হাওলাদার এক পুলিশ সদস্যের হাতে কামড়িয়ে ফেলেন এবং সেই সুযোগে অন্ধকারের মধ্যেই পালিয়ে যান বলে জানান কর্মকর্তারা। তবে ঘটনাস্থল থেকেই মাসুমের স্ত্রী রিমি বেগম, ভাই সোহেল হাওলাদার, বোন শিল্পী আক্তার এবং বন্ধু রিফাতকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি, হামলা এবং পুলিশের ওপর আঘাতের অভিযোগে আজ শনিবার শহর উপপরিদর্শক (টিএসআই) মাহাবুব আলম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মাসুমসহ ১৫ জনকে নামীয় আসামি ও আরও ৬০–৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা মামলা নিয়েছি এবং চারজনকে আটক করেছি। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যারা হামলায় জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ বলছে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় বাড়তি প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।