টেকনাফে ডাকাত–অপহরণ আতঙ্ক: নারী ও শিশুরা নিরাপত্তার জন্য মসজিদে আশ্রয় নিচ্ছে
- Update Time : ০২:৩৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৬৫ Time View

কক্সবাজারের টেকনাফে ডাকাতি ও অপহরণের আতঙ্কে স্থানীয়রা রাতভর পাহারা দিয়ে নিজ পরিবারকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়সংলগ্ন গ্রামে রাত হলেই ডাকাতের ভয়ে মানুষ নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে মসজিদ, খোলা উঠান এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন। নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই অবস্থান এক ধরনের বাধ্যতামূলক নিরাপত্তার ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি এলাকায় থাকা বাড়ি-ঘরগুলো ডাকাত ও অপহরণকারীদের কাছে সহজ লক্ষ্যবস্তু। দিন-রাত যে কোনো সময় তারা লোকজনকে ধরে নিয়ে পাহাড়ে আটকে রাখে। রাতে বাড়িতে হামলা, গুলি চালানো এবং ডাকাতির ঘটনা ঘটাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো মূল্যবান সামগ্রী না পেলে বাসার লোককেই অপহরণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক এমনকি শিশু পর্যন্ত এই অপহরণের শিকার হয়েছেন। ফলে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
গত কয়েকদিনে বাহারছড়ার শীলখালী ও চৌকিদারপাড়া এলাকায় ডাকাতির চেষ্টা ও অপহরণ কার্যক্রম আরও বেড়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, প্রতিরাতেই গুলির শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতি এমন যে গ্রামবাসী রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে ঘরবাড়ি ছেড়ে মসজিদের উঠান, বারান্দা বা খোলা জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন। শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা অন্ধকারে ভয়-ভীতি নিয়ে রাত কাটাচ্ছেন।
চৌকিদারপাড়ার বাসিন্দা নুরে আলম জানান, গ্রামে শতাধিক পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। শীলখালীর লিয়াকত আলী বলেন, কয়েকদিন আগে ২০-৩০ জনের একটি ডাকাতদল গ্রামের ওপর হামলা চালায়, কিন্তু গ্রামের লোকজনের প্রতিরোধে তারা পালিয়ে যায়। জুবায়ের ইসলাম জুয়েল ও অন্যান্য গ্রামবাসীরাও জানান, প্রতিরোধ ও নিরাপত্তার জন্য তারা প্রতি রাতে পাহারায় থাকছেন।
এদিকে টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস জানান, ডাকাতদলের খবর পেলে তারা দ্রুত সাড়া দিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন। ডাকাত ও অপহরণকারীদের কার্যক্রম রোধে পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অব্যাহতভাবে কাজ করছে। তবে স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে আরও কার্যকর পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভেতর আতঙ্ক ও নিরাপত্তার জন্য সজাগ থাকার মনোভাব এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নারী ও শিশুদের মসজিদে আশ্রয় নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে কার্যকর থাকবে।













