সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাত্র দুই-চার ঘণ্টা ঘুমেই দিন কাটান জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৫৩ Time View

জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি তার কর্মঠ জীবনযাপন ও অসাধারণ কর্মক্ষমতার জন্য ইতিমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন। সম্প্রতি তিনি স্বীকার করেছেন যে, প্রতিদিন রাতে তিনি মাত্র দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘুমান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) নিজেই তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

গত সপ্তাহে সংসদের আসন্ন অধিবেশন নিয়ে আলোচনার জন্য ভোর ৩টায় তার অফিসে একটি বিশেষ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই অস্বাভাবিক সময়ে বৈঠকের ডাক পড়ে কর্মীদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়। বৈঠকের পর অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী এত ভোরে কীভাবে কাজ করেন? তখনই তাকাইচি হেসে বলেন, “আমি সাধারণত দুই ঘণ্টা মতো ঘুমাই, কখনো সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা। আমি জানি, এটা আমার ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়, কিন্তু দায়িত্বের ভারে সময়ের সঙ্গে লড়াই করতেই হয়।”

জাপানে কর্মঘণ্টার দীর্ঘতা এবং অতিরিক্ত কাজের চাপের বিষয়টি বহুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দেশটিতে এমনকি অতিরিক্ত কাজের ফলে মৃত্যুর ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়, যার জন্য একটি বিশেষ শব্দও প্রচলিত—‘কারোশি’ (অর্থাৎ অতিরিক্ত কাজের চাপজনিত মৃত্যু)। তাকাইচির অল্প ঘুমের অভ্যাস সেই বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। অনেকেই বলছেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থাকা একজন ব্যক্তির এমন জীবনযাপন হয়তো কর্মনিষ্ঠার প্রতীক, কিন্তু এটি জাপানের বিদ্যমান কর্মসংস্কৃতির ভারসাম্যহীনতার প্রতিফলনও বটে।

তাকাইচি গত মাসে জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন, যা দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ সংস্কার, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে জোর দিচ্ছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি এক বক্তব্যে ঘোষণা দেন—“আমি ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স’ শব্দটি ভুলে গেছি। এখন আমার জীবনের মূল মন্ত্র—কাজ, কাজ, এবং আরও কাজ।”

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাকাইচি এক ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। প্রতিদিনের সরকারি কাজের পাশাপাশি তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংস্কার, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ক্রমাগত বৈঠক করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তাকাইচির নেতৃত্ব জাপানের রাজনীতিতে এক নতুন ধারা তৈরি করছে। তিনি শুধু নারী নেতৃত্বের প্রতীক নন, বরং কর্মনিষ্ঠা ও দৃঢ়তার এক জীবন্ত উদাহরণ। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে অল্প ঘুম শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই তারা তাকাইচির মতো উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরামর্শ দিচ্ছেন, যেন কর্মক্ষমতা টিকে থাকে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভারসাম্য বজায় থাকে।

জাপানি জনগণ এখন তাকাইচির দিকে তাকিয়ে আছে—এই কঠোর পরিশ্রমী নারী প্রধানমন্ত্রী দেশটিকে কোথায় নিয়ে যান। তিনি কি দেশের পুরনো কর্মসংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে পারবেন, নাকি নিজেই সেই সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে উঠবেন—সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মাত্র দুই-চার ঘণ্টা ঘুমেই দিন কাটান জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি

Update Time : ০৪:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি তার কর্মঠ জীবনযাপন ও অসাধারণ কর্মক্ষমতার জন্য ইতিমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন। সম্প্রতি তিনি স্বীকার করেছেন যে, প্রতিদিন রাতে তিনি মাত্র দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘুমান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) নিজেই তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

গত সপ্তাহে সংসদের আসন্ন অধিবেশন নিয়ে আলোচনার জন্য ভোর ৩টায় তার অফিসে একটি বিশেষ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই অস্বাভাবিক সময়ে বৈঠকের ডাক পড়ে কর্মীদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়। বৈঠকের পর অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী এত ভোরে কীভাবে কাজ করেন? তখনই তাকাইচি হেসে বলেন, “আমি সাধারণত দুই ঘণ্টা মতো ঘুমাই, কখনো সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা। আমি জানি, এটা আমার ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়, কিন্তু দায়িত্বের ভারে সময়ের সঙ্গে লড়াই করতেই হয়।”

জাপানে কর্মঘণ্টার দীর্ঘতা এবং অতিরিক্ত কাজের চাপের বিষয়টি বহুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দেশটিতে এমনকি অতিরিক্ত কাজের ফলে মৃত্যুর ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়, যার জন্য একটি বিশেষ শব্দও প্রচলিত—‘কারোশি’ (অর্থাৎ অতিরিক্ত কাজের চাপজনিত মৃত্যু)। তাকাইচির অল্প ঘুমের অভ্যাস সেই বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। অনেকেই বলছেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থাকা একজন ব্যক্তির এমন জীবনযাপন হয়তো কর্মনিষ্ঠার প্রতীক, কিন্তু এটি জাপানের বিদ্যমান কর্মসংস্কৃতির ভারসাম্যহীনতার প্রতিফলনও বটে।

তাকাইচি গত মাসে জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন, যা দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ সংস্কার, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে জোর দিচ্ছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি এক বক্তব্যে ঘোষণা দেন—“আমি ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স’ শব্দটি ভুলে গেছি। এখন আমার জীবনের মূল মন্ত্র—কাজ, কাজ, এবং আরও কাজ।”

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাকাইচি এক ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। প্রতিদিনের সরকারি কাজের পাশাপাশি তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংস্কার, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ক্রমাগত বৈঠক করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তাকাইচির নেতৃত্ব জাপানের রাজনীতিতে এক নতুন ধারা তৈরি করছে। তিনি শুধু নারী নেতৃত্বের প্রতীক নন, বরং কর্মনিষ্ঠা ও দৃঢ়তার এক জীবন্ত উদাহরণ। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে অল্প ঘুম শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই তারা তাকাইচির মতো উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরামর্শ দিচ্ছেন, যেন কর্মক্ষমতা টিকে থাকে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভারসাম্য বজায় থাকে।

জাপানি জনগণ এখন তাকাইচির দিকে তাকিয়ে আছে—এই কঠোর পরিশ্রমী নারী প্রধানমন্ত্রী দেশটিকে কোথায় নিয়ে যান। তিনি কি দেশের পুরনো কর্মসংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে পারবেন, নাকি নিজেই সেই সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে উঠবেন—সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।