রাজশাহীতে বিচারকের বাসায় ভয়াবহ হামলা: ছুরিকাঘাতে নিহত বিচারকের ছেলে, স্ত্রী গুরুতর আহত
- Update Time : ০৭:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৫৭ Time View

রাজশাহীতে এক ভয়াবহ ঘটনায় মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমানের বাসায় ঢুকে তার ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে (২৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে এক যুবক। হামলায় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজপাড়া থানার ডাবতলা এলাকার স্পার্ক ভিউ ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত বিচারকের সরকারি বাসভবনে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আবু সুফিয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “একজন যুবক বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলে ও স্ত্রীকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে ছেলে ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং স্ত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
ঘটনাস্থলে আতঙ্ক, আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলাকারী যুবকের নাম লিমন মিয়া (২৮)। সে গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লিমন হঠাৎ বিচারকের বাসায় প্রবেশ করে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। চাপাতির আঘাতে তাওসিফ রহমান ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
আহত বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চার নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে হামলাকারী লিমন মিয়াও স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে আহত হন এবং তাকেও রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন বলে নিশ্চিত করেছেন উপ-পুলিশ কমিশনার গাজীউর রহমান।
হামলার কারণ নিয়ে তদন্তে পুলিশ
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্তকারীরা এখনো হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি।
আরএমপি কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, “ঘটনাস্থলে ফরেনসিক ও ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করছে। আমরা ইতোমধ্যে বাসার ভেতর থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছি। প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত শত্রুতার সূত্র পাওয়া গেছে, তবে বিস্তারিত তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
নৃশংস ঘটনার পর বিচারক মহলে উদ্বেগ
এই হত্যাকাণ্ডে রাজশাহীর বিচারক সমাজে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং দ্রুত দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
একজন সিনিয়র বিচারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এটি বিচার বিভাগের মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। বিচারক পরিবারকে লক্ষ্য করে এমন হামলা নজিরবিহীন। প্রশাসনকে অবিলম্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।”
তদন্ত চলছে, লিমনের পেছনে কারা ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে
পুলিশ জানায়, হামলাকারী লিমনের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সে একা কাজ করেনি, বরং এর পেছনে অন্য কারও প্ররোচনা বা পরিকল্পনা থাকতে পারে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের একটি বিশেষ টিম লিমনের পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
















