পাকিস্তানকে কড়া পরিণতির হুঁশিয়ারি দিলো আফগানিস্তান
- Update Time : ১২:০৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৪৬ Time View

পাকিস্তানকে কড়া পরিণতির হুঁশিয়ারি দিলো আফগানিস্তান
কাবুল ও পাকতিকায় বিমান হামলা: আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিন্দা, পররাষ্ট্রমন্ত্রীতে তীব্র সতর্কতা
আফগানিস্তান নিশ্চিত করেছে, গত বৃহস্পতিবার কাবুল ও পাকতিকা এলাকায় পাকিস্তান থেকে বিমান হামলা হয়েছে—এ ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র রূপ নিয়েছে। ঘটনাটিকে আফগান প্রশাসন তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে কড়া নিন্দা জানিয়েছে এবং পাকিস্তানকে সম্ভাব্য পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছে। খবর জানিয়েছে টোলো নিউজ।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওই হামলার দ্রুত ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও জনগণের নিরাপত্তার উপর একটি সরাসরি আঘাত। মন্ত্রণালয় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া প্রদানের দাবি জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি হস্তান্তরের ইঙ্গিত দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়াতুল্লাহ খাওরাজমি বলেন, “এটি আফগান ইতিহাসে নজিরবিহীন, সহিংস ও ঘৃণ্য এক কাজ। আমাদের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এমন আগ্রাসন আমরা মেনে নেবো না — আমাদের প্রতিরক্ষা ও সার্বভৌম অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার আমাদের আছে।” তিনি আফগান সরকারের পক্ষ থেকে কড়া শাস্তিমূলক প্রতিক্রিয়ার উল্লেখ করে সতর্কবার্তা দেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতে সফররত আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিও পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আফগান জনগণের ধৈর্য্যকে পরীক্ষা করা উচিৎ নয় এবং সমস্যাগুলোকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকটের আড়ালে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তিনি বলেন, “আত্মরক্ষার নামে বা সীমান্তীয় নিরাপত্তার নামে যে ধরনের হামলা হয়েছে, তা আমরা একটি বড় ভুল হিসেবে দেখি। বল প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা যায় না।”
মুত্তাকি আরও সতর্ক করে বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য যে, আফগানিস্তানে চাপ, বাহ্যিক হস্তক্ষেপ বা সহিংসতায় কোনো স্থায়ী সমাধান এসেছে না—ব্রিটিশ, রাশিয়া, আমেরিকা ও ন্যাটোর অভিজ্ঞতাই এ বিষয়ে প্রমাণ। তিনি বাকিং করে বলেন, “আফগানদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না; যদি পরীক্ষা নিতে চান, গত ইতিহাস আপনাকে সবকথা বলে দেবে।”
আফগান প্রশাসন ও কূটনীতিকরা আশা করেন, এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও প্রতিবেশী দেশগুলো বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করবে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো মাধ্যমে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে নেয়া হবে। তারা বলছে, সীমান্তীয় ঘটনার পুরোদমে তদন্ত ও বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে তোলা প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
তবে আফগানদের কড়া হুঁশিয়ারি ও অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ কিভাবে জবাব দেবে—এ সম্পর্কে এখনও কোনো সরকারী প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দ্বি-পাক্ষিক উত্তেজনা অচলাবস্থায় পরিণত হলে সীমান্ত পার্শ্ববর্তী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
টোকেন হিসেবে টোলো নিউজ ঘটনাটি প্রতীয়মান করেছে—আফগান সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতিগুলোও সেখানে প্রতিফলিত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপ, তীক্ষ্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ছাড়া উত্তেজনা কমানো কঠিন বলে মনে করছেন নীরব পর্যবেক্তারা।















