সময়: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘানার সমর্থকদের ‘কালো জাদু’ই কি ইংল্যান্ডের কাল হলো?

ইকবাল মোল্লা
  • Update Time : ০৬:১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / ১২২ Time View

 

ফুটবল বিশ্বকাপে প্রায়ই এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা কেবল খেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে কুসংস্কার, বিশ্বাস ও রহস্যের জন্ম দেয়। এবারও তেমনই এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ঘানা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ। শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে—ঘানার সমর্থকদের ‘কালো জাদু’ কি সত্যিই ইংল্যান্ডের জয়রথ থামিয়ে দিল?

ম্যাচের আগে ঘানার বিখ্যাত জাদুকর নানা কওয়াকু বোনসাম প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তিনি ইংল্যান্ডের অধিনায়ক Harry Kane-এর ওপর কাজ করছেন এবং কেইনকে কীভাবে থামাতে হয়, তা তিনি জানেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আর ম্যাচে যা ঘটল, তা যেন সেই রহস্যকে আরও উসকে দিল। ফর্মের তুঙ্গে থাকা হ্যারি কেইন পুরো ম্যাচে ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগও প্রত্যাশিত ধার দেখাতে পারেনি। যে কয়েকটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেগুলোও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ইংলিশরা।

 

অন্যদিকে, আফ্রিকার দল ঘানা অসাধারণ রক্ষণভাগের নৈপুণ্য দেখিয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে রুখে দেয়। প্রথম দুই ম্যাচে গোল না খেয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম বিস্ময়কর দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা।

ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকেও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, কিছু ঘানার সমর্থক সাদা পাউডার ছিটিয়ে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মতো কিছু করছেন। আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে প্রচলিত ‘জুজু’ বা আধ্যাত্মিক চর্চার সঙ্গে এর মিল থাকায় অনেকেই এটিকে ‘কালো জাদু’ হিসেবে আখ্যা দিতে শুরু করেন।

এমনকি ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার Declan Rice-ও ম্যাচ শেষে মজা করে বলেন, “হয়তো কালো জাদুই মাঠে কাজ করছিল!”

তবে বাস্তবতা হলো, ফুটবলে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, কৌশল, শৃঙ্খলা এবং মানসিক দৃঢ়তা। কালো জাদুর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যে তা মাঠের ফলাফল বদলে দিতে পারে। কিন্তু ফুটবল এমন এক আবেগের খেলা, যেখানে বিশ্বাস, কুসংস্কার এবং রহস্য প্রায়ই সমর্থকদের কল্পনাকে নাড়া দেয়।

ঘানার সমর্থকদের আচার-অনুষ্ঠান হয়তো তাদের সাংস্কৃতিক বিশ্বাসেরই অংশ। কিন্তু ইংল্যান্ডের গোলশূন্য ড্রয়ের প্রকৃত কারণ খুঁজতে হলে তাকাতে হবে মাঠের পারফরম্যান্স, কৌশলগত ব্যর্থতা এবং ঘানার দুর্দান্ত রক্ষণভাগের দিকে—কালো জাদুর দিকে নয়।

তবুও ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্নটি থেকেই যাবে—সেদিন বোস্টনের রাতে কি শুধুই ফুটবল জিতেছিল, নাকি রহস্যও একটু জায়গা করে নিয়েছিল?

 

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ইকবাল মোল্লা

ইকবাল মোল্লা, একজন অভিজ্ঞ কলামিস্ট এবং সফল রাজনীতিবিদ, হোমল্যান্ড নিউজের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। এখানে তিনি তার প্রখর বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োগ করেন, বিশেষ করে রাজনীতির উপর। আধুনিক সমস্যাগুলির গভীর বোঝাপড়া এবং বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ইকবালের কলামগুলো চিন্তাশীল পাঠকদের জন্য অপরিহার্য পাঠ্য হয়ে উঠেছে। তার সুনিপুণ ও আকর্ষণীয় লেখার শৈলী এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমাহার তাকে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একটি সম্মানিত কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজনৈতিক আলোচনা ছাড়াও, ইকবালের লেখার বহুমুখিতা প্রমাণিত হয়েছে বিভিন্ন বিষয় দক্ষতার সাথে হাতকর্ম করার মাধ্যমে। তার লেখা মাধ্যমে, ইকবাল জনগণের আলোচনাকে প্রভাবিত করে চলেছেন এবং আমাদের সময়ের জটিল সমস্যাগুলির গভীর বোঝাপড়ায় সাহায্য করছেন।

ঘানার সমর্থকদের ‘কালো জাদু’ই কি ইংল্যান্ডের কাল হলো?

Update Time : ০৬:১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

 

ফুটবল বিশ্বকাপে প্রায়ই এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা কেবল খেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে কুসংস্কার, বিশ্বাস ও রহস্যের জন্ম দেয়। এবারও তেমনই এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ঘানা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ। শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে—ঘানার সমর্থকদের ‘কালো জাদু’ কি সত্যিই ইংল্যান্ডের জয়রথ থামিয়ে দিল?

ম্যাচের আগে ঘানার বিখ্যাত জাদুকর নানা কওয়াকু বোনসাম প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তিনি ইংল্যান্ডের অধিনায়ক Harry Kane-এর ওপর কাজ করছেন এবং কেইনকে কীভাবে থামাতে হয়, তা তিনি জানেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আর ম্যাচে যা ঘটল, তা যেন সেই রহস্যকে আরও উসকে দিল। ফর্মের তুঙ্গে থাকা হ্যারি কেইন পুরো ম্যাচে ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগও প্রত্যাশিত ধার দেখাতে পারেনি। যে কয়েকটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেগুলোও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ইংলিশরা।

 

অন্যদিকে, আফ্রিকার দল ঘানা অসাধারণ রক্ষণভাগের নৈপুণ্য দেখিয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে রুখে দেয়। প্রথম দুই ম্যাচে গোল না খেয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম বিস্ময়কর দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা।

ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকেও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, কিছু ঘানার সমর্থক সাদা পাউডার ছিটিয়ে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মতো কিছু করছেন। আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে প্রচলিত ‘জুজু’ বা আধ্যাত্মিক চর্চার সঙ্গে এর মিল থাকায় অনেকেই এটিকে ‘কালো জাদু’ হিসেবে আখ্যা দিতে শুরু করেন।

এমনকি ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার Declan Rice-ও ম্যাচ শেষে মজা করে বলেন, “হয়তো কালো জাদুই মাঠে কাজ করছিল!”

তবে বাস্তবতা হলো, ফুটবলে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, কৌশল, শৃঙ্খলা এবং মানসিক দৃঢ়তা। কালো জাদুর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যে তা মাঠের ফলাফল বদলে দিতে পারে। কিন্তু ফুটবল এমন এক আবেগের খেলা, যেখানে বিশ্বাস, কুসংস্কার এবং রহস্য প্রায়ই সমর্থকদের কল্পনাকে নাড়া দেয়।

ঘানার সমর্থকদের আচার-অনুষ্ঠান হয়তো তাদের সাংস্কৃতিক বিশ্বাসেরই অংশ। কিন্তু ইংল্যান্ডের গোলশূন্য ড্রয়ের প্রকৃত কারণ খুঁজতে হলে তাকাতে হবে মাঠের পারফরম্যান্স, কৌশলগত ব্যর্থতা এবং ঘানার দুর্দান্ত রক্ষণভাগের দিকে—কালো জাদুর দিকে নয়।

তবুও ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্নটি থেকেই যাবে—সেদিন বোস্টনের রাতে কি শুধুই ফুটবল জিতেছিল, নাকি রহস্যও একটু জায়গা করে নিয়েছিল?