বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটে ভারতের অলিম্পিক স্বপ্নে শঙ্কার ঘনঘটা
- Update Time : ০৯:৪১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৯৯ Time View

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে গত ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসিকে ভারতের বাইরে ভেন্যু নির্ধারণের অনুরোধ করে। ২১ জানুয়ারি আইসিসির বোর্ডসভা শেষে জানানো হয়—বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে হবে। তবে বিসিবি নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই সিদ্ধান্তের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ানীতিতে। ভারত ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্ন দেখলেও খেলাধুলায় রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) বরাবরই কঠোর। ভারত–বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ভারতের অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্নে ‘বিদায় ঘণ্টা’ বাজতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর পেছনে কেবল নিরাপত্তা নয়—দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া-রাজনৈতিক টানাপোড়েনও ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের বোলার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যদিও আইসিসি নিজেদের স্বাধীন সংস্থা দাবি করে, অতীতে বিসিসিআইয়ের অনুকূলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সম্প্রচার ও আর্থিক সুবিধার কারণে ভারতকে গায়ানায় নিশ্চিত সেমিফাইনাল দেওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইসিসিতে বিসিসিআইয়ের প্রভাব যে শক্তিশালী, সেটিও তুলে ধরেছে গার্ডিয়ান। বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন এবং তাঁর বাবা অমিত শাহ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তের ভারতীয় মিডিয়া জায়ান্ট জিওস্টারের সঙ্গে পূর্ব সম্পর্কের কথাও প্রতিবেদনে এসেছে।
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ভারত সম্প্রতি দিল্লিতে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের অনুমোদন পেয়েছে এবং আহমেদাবাদে ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের জন্য জোরালো বিড করছে। এই দৌড়ে কাতারকে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আইওসি খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে আইসিসির তুলনায় অনেক বেশি কঠোর। গার্ডিয়ানকে আইওসি–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, যদি অন্য দেশগুলোর বয়কটের আশঙ্কা থাকে, তাহলে ভারতকে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে। অলিম্পিকে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মত প্রকাশও নিষিদ্ধ। এই কঠোরতার উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে ইন্দোনেশিয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে—ইসরায়েলি দলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় দেশটিকে ভবিষ্যৎ অলিম্পিক আয়োজন সংক্রান্ত আলোচনা থেকেও সাময়িকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানও বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাবছে। একই সঙ্গে ভারত–পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। আইওসি–সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, অলিম্পিক আয়োজনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রার্থী হতে হলে ভারতকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে।






















