সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ জুলাই থেকেই শতভাগ বেসিক বাস্তবায়নের দাবি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:১২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
  • / ২১৭ Time View

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। তবে সংগঠনটি সরকারের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছে যে, নতুন পে-স্কেল যেন ধাপে ধাপে নয়, আগামী ১ জুলাই থেকেই শতভাগ (১০০ শতাংশ) মূল বেতন কার্যকর করে বাস্তবায়ন করা হয়।

রোববার (৩১ মে) সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল মালেক এবং সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামের যৌথ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। তারা বলেন, গত এক দশকে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরা চরম অর্থনৈতিক চাপে জীবনযাপন করছেন। অনেকেই সংসার চালাতে অতিরিক্ত আয়ের পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন, যা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের জন্য উদ্বেগজনক।

৫০ শতাংশ বেসিক বাস্তবায়ন হলে উপকার হবে না

সংগঠনের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে যে সরকার তিন অর্থবছরে তিন ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের চিন্তা করছে এবং প্রথম ধাপে মাত্র ৫০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন দেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে বর্তমানে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বা ভাতা সমন্বয় করা হলে অধিকাংশ কর্মচারীর প্রকৃত আয় খুব সামান্যই বৃদ্ধি পাবে।

তাদের মতে, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে একটি পরিবারের এক সপ্তাহের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারও সম্পন্ন করা কঠিন হবে। ফলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও কর্মচারীদের জীবনমানের বাস্তব উন্নতি ঘটবে না।

কল্যাণ সমিতির বিকল্প প্রস্তাব

সংগঠনটি সরকারের কাছে একটি বিকল্প বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করতে হবে।
  • বর্তমান ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা নতুন বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা যেতে পারে।
  • দ্বিতীয় ধাপে বাসাভাড়া ভাতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
  • তৃতীয় ধাপে চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয় করা যেতে পারে।

তাদের দাবি, এভাবে বাস্তবায়ন করলে সরকারি কর্মচারীরা প্রকৃত সুবিধা পাবেন এবং সরকারের ওপরও এককালীন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে না।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা

কল্যাণ সমিতির নেতারা আরও বলেন, অতীতে দেখা গেছে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। যদি তিন বছর ধরে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে প্রতি বছরই নতুন করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অজুহাত তৈরি হবে।

তাদের মতে, এককালীন বাস্তবায়ন হলে বাজারে এই ধরনের কারসাজির সুযোগ কম থাকবে। অন্যথায় বর্ধিত বেতনের সুফল কর্মচারীদের হাতে পৌঁছানোর আগেই মূল্যস্ফীতির চাপে তা হারিয়ে যাবে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল

সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত একটি পে-স্কেলের সুবিধা সরকারি কর্মচারীরা পাঁচ বছরের মতো ভোগ করেন। কিন্তু এবার ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো আসছে। সেই পে-স্কেল যদি আবার তিন বছর ধরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে কর্মচারীদের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।

তারা প্রধানমন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে আগামী ১ জুলাই থেকেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

১ জুলাই থেকেই শতভাগ বেসিক বাস্তবায়নের দাবি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

Update Time : ১০:১২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। তবে সংগঠনটি সরকারের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছে যে, নতুন পে-স্কেল যেন ধাপে ধাপে নয়, আগামী ১ জুলাই থেকেই শতভাগ (১০০ শতাংশ) মূল বেতন কার্যকর করে বাস্তবায়ন করা হয়।

রোববার (৩১ মে) সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল মালেক এবং সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামের যৌথ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। তারা বলেন, গত এক দশকে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরা চরম অর্থনৈতিক চাপে জীবনযাপন করছেন। অনেকেই সংসার চালাতে অতিরিক্ত আয়ের পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন, যা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের জন্য উদ্বেগজনক।

৫০ শতাংশ বেসিক বাস্তবায়ন হলে উপকার হবে না

সংগঠনের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে যে সরকার তিন অর্থবছরে তিন ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের চিন্তা করছে এবং প্রথম ধাপে মাত্র ৫০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন দেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে বর্তমানে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বা ভাতা সমন্বয় করা হলে অধিকাংশ কর্মচারীর প্রকৃত আয় খুব সামান্যই বৃদ্ধি পাবে।

তাদের মতে, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে একটি পরিবারের এক সপ্তাহের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারও সম্পন্ন করা কঠিন হবে। ফলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও কর্মচারীদের জীবনমানের বাস্তব উন্নতি ঘটবে না।

কল্যাণ সমিতির বিকল্প প্রস্তাব

সংগঠনটি সরকারের কাছে একটি বিকল্প বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করতে হবে।
  • বর্তমান ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা নতুন বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা যেতে পারে।
  • দ্বিতীয় ধাপে বাসাভাড়া ভাতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
  • তৃতীয় ধাপে চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয় করা যেতে পারে।

তাদের দাবি, এভাবে বাস্তবায়ন করলে সরকারি কর্মচারীরা প্রকৃত সুবিধা পাবেন এবং সরকারের ওপরও এককালীন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে না।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা

কল্যাণ সমিতির নেতারা আরও বলেন, অতীতে দেখা গেছে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। যদি তিন বছর ধরে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে প্রতি বছরই নতুন করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অজুহাত তৈরি হবে।

তাদের মতে, এককালীন বাস্তবায়ন হলে বাজারে এই ধরনের কারসাজির সুযোগ কম থাকবে। অন্যথায় বর্ধিত বেতনের সুফল কর্মচারীদের হাতে পৌঁছানোর আগেই মূল্যস্ফীতির চাপে তা হারিয়ে যাবে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল

সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত একটি পে-স্কেলের সুবিধা সরকারি কর্মচারীরা পাঁচ বছরের মতো ভোগ করেন। কিন্তু এবার ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো আসছে। সেই পে-স্কেল যদি আবার তিন বছর ধরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে কর্মচারীদের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।

তারা প্রধানমন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে আগামী ১ জুলাই থেকেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।