সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:২৩:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
  • / ১১২ Time View

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা, কর্মনিষ্ঠা ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রচিন্তাকে ধারণ করেই বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, শহীদ জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন জাতির জন্য একটি দিকনির্দেশনামূলক দর্শনের প্রতীক, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন পরিচিতি লাভ করেছিল।

রোববার (৩১ মে) শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন এমন একজন নেতা, যার সততা, দেশপ্রেম ও কর্মদক্ষতার কারণে বিশ্ববাসী বাংলাদেশকে নতুনভাবে চিনেছিল। তিনি দেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। আজও তাঁর উন্নয়ন দর্শন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার জন্য প্রাসঙ্গিক।”

তিনি বলেন, “যে গাছ ফল দেয়, সেই গাছেই মানুষ ঢিল মারে। শহীদ জিয়াও রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর আদর্শ, কর্ম ও অবদান ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি।”

প্রধানমন্ত্রী নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির সামনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ, দায়িত্বশীল এবং সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিভাজন নয়, জাতীয় ঐক্যই হতে হবে আমাদের শক্তি।”

দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত শিক্ষা সংস্কার, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষি উন্নয়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারেক রহমান আরও বলেন, “শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি, কৃষি বিপ্লব, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠনের যে দর্শন ছিল, বর্তমান সরকার সেই পথ অনুসরণ করেই এগোচ্ছে। দেশের প্রতিটি খাতে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।”

তিনি জাতীয় বেতন কাঠামো সংস্কার, প্রশাসনিক আধুনিকায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা সফল করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সরকারের একার পক্ষে উন্নয়ন সম্ভব নয়; বরং কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “শহীদ জিয়ার স্বপ্ন ছিল একটি স্বনির্ভর, মর্যাদাশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন আমাদের সবার। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ১০:২৩:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা, কর্মনিষ্ঠা ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রচিন্তাকে ধারণ করেই বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, শহীদ জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন জাতির জন্য একটি দিকনির্দেশনামূলক দর্শনের প্রতীক, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন পরিচিতি লাভ করেছিল।

রোববার (৩১ মে) শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন এমন একজন নেতা, যার সততা, দেশপ্রেম ও কর্মদক্ষতার কারণে বিশ্ববাসী বাংলাদেশকে নতুনভাবে চিনেছিল। তিনি দেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। আজও তাঁর উন্নয়ন দর্শন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার জন্য প্রাসঙ্গিক।”

তিনি বলেন, “যে গাছ ফল দেয়, সেই গাছেই মানুষ ঢিল মারে। শহীদ জিয়াও রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর আদর্শ, কর্ম ও অবদান ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি।”

প্রধানমন্ত্রী নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির সামনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ, দায়িত্বশীল এবং সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিভাজন নয়, জাতীয় ঐক্যই হতে হবে আমাদের শক্তি।”

দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত শিক্ষা সংস্কার, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষি উন্নয়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারেক রহমান আরও বলেন, “শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি, কৃষি বিপ্লব, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠনের যে দর্শন ছিল, বর্তমান সরকার সেই পথ অনুসরণ করেই এগোচ্ছে। দেশের প্রতিটি খাতে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।”

তিনি জাতীয় বেতন কাঠামো সংস্কার, প্রশাসনিক আধুনিকায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা সফল করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সরকারের একার পক্ষে উন্নয়ন সম্ভব নয়; বরং কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “শহীদ জিয়ার স্বপ্ন ছিল একটি স্বনির্ভর, মর্যাদাশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন আমাদের সবার। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”