সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামায়াতের দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ১০:২৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • / ১৩৮ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের নিয়ে দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার শহরের আলহেরা মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা অংশ নেন।

শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য থেমে থাকার সুযোগ নেই। আদর্শিক সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের জনশক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য সৎ, দক্ষ ও তাকওয়াবান নেতৃত্ব অপরিহার্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তার বলেন, অধঃস্তন সংগঠনগুলোই মূল সংগঠনের প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করে এবং বর্তমান শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ের সংগঠনগুলোকে আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমীর মোবারক হোসাইন আখন্দ। সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম। শিক্ষাশিবিরে দারসুল কুরআন পেশ করেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা নাজমুল আলম আরিফ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জোনায়েদ হাসান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. আবুল বাসার, মুনিরুজ্জামান, রাজিফুল হাসান বাপ্পী, কাজী সিরাজুল ইসলাম, ডা. এম এ হানিফ এবং রুকন উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের সংগঠনগুলোকে দাওয়াতি কার্যক্রমের কেন্দ্র এবং আদর্শিক আন্দোলনের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করতে হবে। দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইসলামী ও সমসাময়িক জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

শিক্ষাশিবিরে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে “জুলাই বিপ্লব” ও “জুলাই সনদ” প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সরকারকে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী এ শিক্ষাশিবিরে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত আমীর, সভাপতি ও সেক্রেটারিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামায়াতের দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

Update Time : ১০:২৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের নিয়ে দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার শহরের আলহেরা মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা অংশ নেন।

শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য থেমে থাকার সুযোগ নেই। আদর্শিক সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের জনশক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য সৎ, দক্ষ ও তাকওয়াবান নেতৃত্ব অপরিহার্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তার বলেন, অধঃস্তন সংগঠনগুলোই মূল সংগঠনের প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করে এবং বর্তমান শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ের সংগঠনগুলোকে আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমীর মোবারক হোসাইন আখন্দ। সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম। শিক্ষাশিবিরে দারসুল কুরআন পেশ করেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা নাজমুল আলম আরিফ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জোনায়েদ হাসান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. আবুল বাসার, মুনিরুজ্জামান, রাজিফুল হাসান বাপ্পী, কাজী সিরাজুল ইসলাম, ডা. এম এ হানিফ এবং রুকন উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের সংগঠনগুলোকে দাওয়াতি কার্যক্রমের কেন্দ্র এবং আদর্শিক আন্দোলনের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করতে হবে। দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইসলামী ও সমসাময়িক জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

শিক্ষাশিবিরে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে “জুলাই বিপ্লব” ও “জুলাই সনদ” প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সরকারকে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী এ শিক্ষাশিবিরে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত আমীর, সভাপতি ও সেক্রেটারিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।