৭-এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ, ঢাকায় ৯০ শতাংশ ভবন ঝুঁকিতে
- Update Time : ১২:৩১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৫৮ Time View

বাংলাদেশ ও এর আশপাশ অঞ্চলে গত এক মাসে অন্তত ১০ বার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। গড় হিসাবে প্রায় প্রতি দুই দিন পরপরই কেঁপে উঠছে এই জনপদ। বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ৫.৪ মাত্রার কম্পন এবং এর আগে নভেম্বর মাসে নরসিংদীতে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি করেছে। রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব কম্পন অনুভূত হওয়ায় সম্ভাব্য বড় দুর্যোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট সময় পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব না হলেও শত বছর ধরে সক্রিয় থাকা এই অঞ্চলের টেকটনিক প্লেট ও ফল্ট লাইনগুলোতে বিপুল শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভূগর্ভস্থ প্লেট বাউন্ডারিতে প্রতিনিয়ত শক্তি জমা হতে থাকে। যখন এই শক্তি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে, তখন তা তীব্র কম্পনের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। বারবার ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, এখনই সব ধরনের স্থাপনা ভূমিকম্প সহনীয় করে গড়ে তোলা জরুরি। ভবন মালিকদের সচেতন করা এবং প্রকৌশলীদের মাধ্যমে নিয়মিত ভবন পরীক্ষা বা বিল্ডিং অ্যাসেসমেন্ট পরিচালনা করা সময়ের দাবি।
ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮৯৭ সালের ১২ জুন উপমহাদেশে ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ নামে পরিচিত ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার প্রভাব বর্তমান বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও পড়ে। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে এবং আশপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রধান ফল্ট লাইনে প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ বছর পরপর ৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি ২৫০ থেকে হাজার বছরের ব্যবধানে ৮ মাত্রার অধিক শক্তিশালী ভূকম্পনও পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
সবশেষ ১৯৩০ সালে এই অঞ্চলে ৭ মাত্রার একটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। এর পর প্রায় এক শতাব্দী অতিক্রান্ত হয়েছে। ফলে ভূগর্ভে সঞ্চিত শক্তির বিস্ফোরণ ঘটার ঝুঁকি আগের তুলনায় বেড়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
বর্তমান অবকাঠামোগত বাস্তবতা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রায় ২১ লাখ আবাসিক ভবন রয়েছে, যার প্রায় ৩০ শতাংশ ছয় তলার বেশি উঁচু। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ভবনই ভূমিকম্প সহনীয় নকশা ও মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্মিত নয় বলে আশঙ্কা করা হয়। সারা দেশেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার সংখ্যা বিপুল।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, সাম্প্রতিক ছোট কম্পনে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে হলে এখন থেকেই কঠোরভাবে ভূমিকম্প সহনীয় নির্মাণবিধি অনুসরণ, পুরোনো ভবনের কাঠামোগত মূল্যায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।













