সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজয় সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের আয়োজনে পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ১১:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৯০ Time View

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজয় সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় আবহ, সাহিত্যিক চেতনা এবং সামাজিক সম্প্রীতির সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুফতি মোহাম্মদ ইসমাইল ভূঁইয়া। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, রমজান কেবল সংযমের মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এক অনন্য সুযোগ। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠায় রমজানের শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 

 

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যক্ষ আব্দুল মোনায়েম। তিনি বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ লালন একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও বিজয় সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ এ ধরনের গঠনমূলক আয়োজন অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান আলোচক অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান রমজানের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, রমজান আমাদের ধৈর্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। এ মাসেই পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি কুরআনের আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।

 

আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান, আজম মামদুদ মোল্লা এবং অধ্যক্ষ আব্দুল মোমিন। বক্তারা রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, রমজান আমাদের আত্মসংযম শেখানোর পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগায়।

অনুষ্ঠানে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন মোহাম্মদ আনাস আবদুল্লাহ। তাঁর সুমধুর কণ্ঠে পরিবেশিত সংগীত উপস্থিত শ্রোতাদের মাঝে ধর্মীয় অনুভূতির আবহ সৃষ্টি করে। এছাড়া রমজানকে কেন্দ্র করে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কাজী আবুল বাশার খাদেম, যা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ ,অধ্যাপক কবির হোসাইন, সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন,আবু জামাল সর্দার এবং প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সুধীজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত অতিথিদের সম্মানে ইফতার পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্তভাবে পরিচালনা করেন মোহাম্মদ গোলাম হাক্কানী খন্দকার। তাঁর সাবলীল উপস্থাপনা, প্রাঞ্জল ভাষা এবং সময়োপযোগী বক্তব্য অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন পর্ব উপস্থাপন করেন, অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। তাঁর আন্তরিকতা ও উপস্থাপনার নৈপুণ্যে পুরো আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

বিজয় সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের এ আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত সুধীজন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

বিজয় সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের আয়োজনে পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

Update Time : ১১:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজয় সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় আবহ, সাহিত্যিক চেতনা এবং সামাজিক সম্প্রীতির সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুফতি মোহাম্মদ ইসমাইল ভূঁইয়া। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, রমজান কেবল সংযমের মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এক অনন্য সুযোগ। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠায় রমজানের শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 

 

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যক্ষ আব্দুল মোনায়েম। তিনি বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ লালন একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও বিজয় সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ এ ধরনের গঠনমূলক আয়োজন অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান আলোচক অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান রমজানের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, রমজান আমাদের ধৈর্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। এ মাসেই পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি কুরআনের আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।

 

আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান, আজম মামদুদ মোল্লা এবং অধ্যক্ষ আব্দুল মোমিন। বক্তারা রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, রমজান আমাদের আত্মসংযম শেখানোর পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগায়।

অনুষ্ঠানে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন মোহাম্মদ আনাস আবদুল্লাহ। তাঁর সুমধুর কণ্ঠে পরিবেশিত সংগীত উপস্থিত শ্রোতাদের মাঝে ধর্মীয় অনুভূতির আবহ সৃষ্টি করে। এছাড়া রমজানকে কেন্দ্র করে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কাজী আবুল বাশার খাদেম, যা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ ,অধ্যাপক কবির হোসাইন, সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন,আবু জামাল সর্দার এবং প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সুধীজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত অতিথিদের সম্মানে ইফতার পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্তভাবে পরিচালনা করেন মোহাম্মদ গোলাম হাক্কানী খন্দকার। তাঁর সাবলীল উপস্থাপনা, প্রাঞ্জল ভাষা এবং সময়োপযোগী বক্তব্য অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন পর্ব উপস্থাপন করেন, অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। তাঁর আন্তরিকতা ও উপস্থাপনার নৈপুণ্যে পুরো আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

বিজয় সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের এ আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত সুধীজন।