এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় বড় রদবদল আনল ইসি
- Update Time : ০২:৪২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৫১ Time View

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী জন্ম তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের আবেদন এখন থেকে আর মাঠ পর্যায়ে চূড়ান্ত হবে না; এগুলো সরাসরি এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে।
সম্প্রতি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের হাতে থাকা একক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে।
নতুন এসওপি অনুযায়ী, জন্ম তারিখ কিংবা জন্ম তারিখসহ অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তনের আবেদনগুলোকে এখন থেকে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগে এসব আবেদন ক, খ বা গ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিজ নিজ ক্ষমতায় নিষ্পত্তি করতে পারতেন। এখন সেসব আবেদন সরাসরি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পাঠাতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারির আগে জমা পড়া আবেদনগুলোকেও নতুন নিয়ম অনুযায়ী ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে রূপান্তর করতে হবে। অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে আবেদনগুলো মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করবেন, সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়নে তিন ধাপের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে কমিশন। প্রথম ধাপে, পূর্বে ‘ক-১’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে থাকা জন্ম তারিখ সংশোধনসংক্রান্ত আবেদনগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই আবেদনগুলোর ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে ‘ঘ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তৃতীয় ধাপে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সামনে রেখে সীমিত আকারে চলমান সংশোধন কার্যক্রমের মধ্যেও জমে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয়ভাবে সব আবেদন শ্রেণিবিন্যাস ও ডিজি পর্যায়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে এনআইডি তথ্যের সঠিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে কমিশন। তবে সব অঞ্চলের ফাইল একত্রে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হলে কাজের চাপ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও সংশ্লিষ্ট মহলে শোনা যাচ্ছে।
তারপরও কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট—জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নতুন এসওপি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।













