ভোটকেন্দ্র দখল করতে হলে মা-বউ থেকে বিদায় নিয়ে এসো, কারণ ফেরত যেতে পারবা না: হাসনাত
- Update Time : ০৭:০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৩২ Time View

ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে—এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, যারা এবার ভোটকেন্দ্র দখলের মানসিকতা নিয়ে আসবে, তাদের উচিত মা–বোন ও সন্তানদের দোয়া নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়া; কারণ তারা নিরাপদে ফিরে যেতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফীর পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তাদের লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের নামে যে অনৈতিক খেলা চলেছে, এবার সেই চিত্র বদলে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক পক্ষ ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ ও খাবারের প্যাকেট বিতরণ করছে, এমনকি ভোটারদের বাড়িতে পরিবহন পাঠানো হচ্ছে। বিপরীতে, সাধারণ মানুষ নিজ খরচে তাদের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে—এটাই প্রকৃত জনসমর্থনের প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনে কালো টাকা ব্যবহারের প্রস্তুতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে যে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে, তা এখন ভোটের মাঠে খরচ করার চেষ্টা চলছে। নবীনগরের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে এসব চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি অতীতের ভোট অনিয়মের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁর দাবি, দিনের ভোট রাতে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, এমনকি মৃত ব্যক্তির নামেও ভোট পড়েছে। তিনি বলেন, কিছু কর্মকর্তা সুষ্ঠু নির্বাচন চান, কিন্তু প্রভাবশালী মহলের চাপও দৃশ্যমান। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তাঁর অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকেরা খবর পাঠালেও অনেক সময় তা প্রচার করা হয় না। বরং একটি নির্দিষ্ট দলের প্রচারণা ও প্রশংসায় গণমাধ্যমের বড় অংশ ব্যস্ত। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিরপেক্ষতা বজায় না রাখলে জনগণ এবার গণমাধ্যমকেও লাল কার্ড দেখাবে।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন রক্তপাত ও সহিংসতার স্মৃতি বহন করছে। তাঁর ভাষায়, এটি শহীদদের, আহত ছাত্র–জনতার নির্বাচন। বহু মানুষের ত্যাগ, ঘাম ও শ্রমের বিনিময়ে এই নির্বাচন এসেছে বলে উল্লেখ করে ভোটের দিন পর্যন্ত সবাইকে দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, দেড় বছর আগে ঈদের সময় তাঁর একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হলেও তিনি তখন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি।
নবীনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় জেলা জামায়াতের আমির মোবারক হোসেন আখন্দ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফীসহ জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।












