সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘না’ ভোটে নাড়া দিচ্ছে একটি পক্ষ: গণভোটে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা প্রয়োজন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৫৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৭২ Time View

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টিসহ একটি গোষ্ঠী প্রকাশ্যে গোপনে গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম এবং নেপথ্য প্রচারের মাধ্যমে তারা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গণভোটকে ‘সংবিধানবিরোধী’, ‘অবৈধ’ কিংবা ‘দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে’—এমন বক্তব্য ছড়িয়ে ভয় তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারে জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট। রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো, ক্ষমতার ভারসাম্য ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই গণভোটকে অনেকেই ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ‘না’ ভোটকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক ও সন্দেহ ছড়ানোর চেষ্টা করছে—যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টিসহ একটি গোষ্ঠী প্রকাশ্যে ও গোপনে গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম এবং নেপথ্য প্রচারের মাধ্যমে তারা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গণভোটকে ‘সংবিধানবিরোধী’, ‘অবৈধ’ কিংবা ‘দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে’—এমন বক্তব্য ছড়িয়ে ভয় তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ দেশের মূল ধারার অধিকাংশ রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ, পথসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছে দলগুলো। গণভোটের প্রশ্ন ও পদ্ধতি নিয়ে কিছু আপত্তি থাকলেও, রাষ্ট্রব্যবস্থার স্থায়ী সংস্কারে এই ভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার কোনো বাস্তব বিকল্প নেই বলেই মনে করছে রাজপথের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো।

তবে জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলে গণভোট নিয়ে আলোচনা অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে। পর্যাপ্ত প্রচার ও ব্যাখ্যা না হলে সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ গণভোটের তাৎপর্য বুঝতে ব্যর্থ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছে একটি বিশেষ রাজনৈতিক পক্ষ।

এই প্রেক্ষাপটে বসে নেই অন্তর্বর্তী সরকারও। প্রায় ২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী মাঠপর্যায়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন। সরকারিভাবে দেশজুড়ে সভা-সমাবেশ, প্রচারাভিযান ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার খুলনায় বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বিভাগীয় ইমাম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তবুও দীর্ঘদিন পর গণভোট হওয়ায় সাধারণ মানুষের বোধগম্যতা ও আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি গণভোট নয়; বরং আগামী দিনের রাষ্ট্রকাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণের লড়াই। দীর্ঘ আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই জুলাই জাতীয় সনদ ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন সেই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে বিভাজন তৈরি হলে দেশে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে।

গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে এখনো পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে। একদিকে সংস্কারের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার দাবি, অন্যদিকে দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরার চাপ—এই টানাপোড়েনের মধ্যেই দেশ দাঁড়িয়ে আছে। কেউ গণভোটকে গণতন্ত্রের চূড়ান্ত প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, কেউ সময়োপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ শর্তসাপেক্ষে সমর্থন দিচ্ছেন। ফলে গণভোট ঘিরে দেশে এক ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

গণভোটের মূল প্রশ্ন হলো—‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী প্রস্তাবিত মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারে জনগণের সম্মতি আছে কি না। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসন, প্রশাসনে দলীয়করণ কমানো, মৌলিক অধিকার ও ভোটাধিকার সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত। অন্তর্বর্তী সরকারের মতে, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী শাসন ও একক ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির ঝুঁকি কমবে।

এই বাস্তবতায় গণভোটে ‘না’ ভোটকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানো শুধু রাজনৈতিক মতভিন্নতা নয়; বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা। তাই এ ধরনের অপপ্রচার, মিথ্যাচার ও ভয়ভিত্তিক প্রচারণার বিরুদ্ধে সরকারের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণভোটের উদ্দেশ্য, পদ্ধতি ও গুরুত্ব সহজ ভাষায় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প নেই।

গণভোট সফল করতে হলে কেবল সরকারের একক উদ্যোগ নয়, বরং সমমনা রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও সামাজিক শক্তিগুলোর সমন্বয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা জরুরি। সময় স্বল্প হলেও পরিকল্পিত, সমন্বিত ও দৃঢ় পদক্ষেপই পারে এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘না’ ভোটে নাড়া দিচ্ছে একটি পক্ষ: গণভোটে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা প্রয়োজন

Update Time : ১০:৫৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টিসহ একটি গোষ্ঠী প্রকাশ্যে গোপনে গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম এবং নেপথ্য প্রচারের মাধ্যমে তারা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গণভোটকে ‘সংবিধানবিরোধী’, ‘অবৈধ’ কিংবা ‘দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে’—এমন বক্তব্য ছড়িয়ে ভয় তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারে জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট। রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো, ক্ষমতার ভারসাম্য ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই গণভোটকে অনেকেই ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ‘না’ ভোটকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক ও সন্দেহ ছড়ানোর চেষ্টা করছে—যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টিসহ একটি গোষ্ঠী প্রকাশ্যে ও গোপনে গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম এবং নেপথ্য প্রচারের মাধ্যমে তারা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গণভোটকে ‘সংবিধানবিরোধী’, ‘অবৈধ’ কিংবা ‘দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে’—এমন বক্তব্য ছড়িয়ে ভয় তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ দেশের মূল ধারার অধিকাংশ রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ, পথসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছে দলগুলো। গণভোটের প্রশ্ন ও পদ্ধতি নিয়ে কিছু আপত্তি থাকলেও, রাষ্ট্রব্যবস্থার স্থায়ী সংস্কারে এই ভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার কোনো বাস্তব বিকল্প নেই বলেই মনে করছে রাজপথের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো।

তবে জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলে গণভোট নিয়ে আলোচনা অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে। পর্যাপ্ত প্রচার ও ব্যাখ্যা না হলে সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ গণভোটের তাৎপর্য বুঝতে ব্যর্থ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছে একটি বিশেষ রাজনৈতিক পক্ষ।

এই প্রেক্ষাপটে বসে নেই অন্তর্বর্তী সরকারও। প্রায় ২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী মাঠপর্যায়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন। সরকারিভাবে দেশজুড়ে সভা-সমাবেশ, প্রচারাভিযান ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার খুলনায় বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বিভাগীয় ইমাম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তবুও দীর্ঘদিন পর গণভোট হওয়ায় সাধারণ মানুষের বোধগম্যতা ও আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি গণভোট নয়; বরং আগামী দিনের রাষ্ট্রকাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণের লড়াই। দীর্ঘ আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই জুলাই জাতীয় সনদ ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন সেই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে বিভাজন তৈরি হলে দেশে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে।

গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে এখনো পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে। একদিকে সংস্কারের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার দাবি, অন্যদিকে দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরার চাপ—এই টানাপোড়েনের মধ্যেই দেশ দাঁড়িয়ে আছে। কেউ গণভোটকে গণতন্ত্রের চূড়ান্ত প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, কেউ সময়োপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ শর্তসাপেক্ষে সমর্থন দিচ্ছেন। ফলে গণভোট ঘিরে দেশে এক ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

গণভোটের মূল প্রশ্ন হলো—‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী প্রস্তাবিত মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারে জনগণের সম্মতি আছে কি না। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসন, প্রশাসনে দলীয়করণ কমানো, মৌলিক অধিকার ও ভোটাধিকার সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত। অন্তর্বর্তী সরকারের মতে, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী শাসন ও একক ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির ঝুঁকি কমবে।

এই বাস্তবতায় গণভোটে ‘না’ ভোটকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানো শুধু রাজনৈতিক মতভিন্নতা নয়; বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা। তাই এ ধরনের অপপ্রচার, মিথ্যাচার ও ভয়ভিত্তিক প্রচারণার বিরুদ্ধে সরকারের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণভোটের উদ্দেশ্য, পদ্ধতি ও গুরুত্ব সহজ ভাষায় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প নেই।

গণভোট সফল করতে হলে কেবল সরকারের একক উদ্যোগ নয়, বরং সমমনা রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও সামাজিক শক্তিগুলোর সমন্বয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা জরুরি। সময় স্বল্প হলেও পরিকল্পিত, সমন্বিত ও দৃঢ় পদক্ষেপই পারে এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে।